নির্ঝর

অভিমানী

অভিমানী টুকরো মেঘে ঢাকা সে ছোট্ট নেহাত তারার মতন সাঁঝবেলাকার আকাশে সে ছিল ভাই ইরান দেশের পার্বতী এক মেয়ে। রেখেছিল পাহাড়তলির কুটিরখানি ছেয়ে ফুল-মুলুকের ফুলরানি তার এক ফোঁটা ওই রূপে; সুদূর হাওয়া পথিক হাওয়া ওই সে পথে যেতে চুপে-চুপে চমকে কেন থমকে যেত, শ্বাস ফেলত, তাকে...

আশায়

আশায় (হাফেজ) নাই বা পেল নাগাল, শুধু সৌরভেরই আশে অবুঝ, সবুজ দূর্বা যেমন জুঁই-কুড়িটির পাশে বসেই আছে, তেমনি বিভোর থাক রে প্রিয়ার আশায়; তার অলকের একটু সুবাস পশবে তোর এ নাসায়। বরষ-শেষে একটি বারও প্রিয়ার হিয়ার পরশ জাগাবে রে তোরও প্রাণে অমনি অবুঝ...

গরিবের ব্যথা

গরিবের ব্যথা এই যে মায়ের অনাদরে ক্লিষ্ট শিশুগুলি, পরনে নেই ছেঁড়া কানি, সারা গায়ে ধূলি, − সারাদিনের অনাহারে শুষ্ক বদনখানি, খিদের জ্বালায় ক্ষুণ্ণ, তাতে জ্বরের ধুকধুকানি, অযতনে বাছাদের হায়, গা গিয়েছে ফেটে, খুদ-ঘাঁটা তাও জোটে নাকো সারাটি দিন খেটে, − এদের ফেলে ওগো ধনী, ওগো...

চিঠি

চিঠি বিনু! তোমায় আমায় ফুল পাতিয়েছিনু, মনে কি তা পড়ে? – যেদিন সাঁঝে নতুন দেখা বোশেখ মাসের ঝড়ে আমবাগানের একটি গাছের তলায় দুইটি প্রাণই দুলেছিল হিন্দোলেরই দোলায়? তুমি তখন পা দিয়েছ তরুণ কৈশোরে! দোয়েল-কোয়েল-ঘায়েল-করা করুণ ওই স্বরে জিজ্ঞাসিলে আবছায়াতে আমায় দেখে – ‘কে?’ সে...

জীবনে যাহারা বাঁচিল না

জীবনে যাহারা বাঁচিল না জীবন থাকিতে বাঁচিলি না তোরা মৃত্যুর পরে রবি বেঁচে বেহেশ্‌তে গিয়ে বাদশার হালে, আছিস দিব্যি মনে এঁচে! হাসি আর শুনি! – ওরে দুর্বল, পৃথিবীতে যারা বাঁচিল না, এই দুনিয়ার নিয়ামত হতে – নিজেরে করিল বঞ্চনা, কিয়ামতে তারা ফল পাবে গিয়ে? ঝুড়ি ঝুড়ি পাবে...

তুমি কি গিয়াছ ভুলে

তুমি কি গিয়াছ ভুলে তুমি কি গিয়াছ ভুলে? – তোমার চরণ-স্মরণ-চিহ্ন আজও মোর নদীকূলে মুছিল না প্রিয়, মুছিল না তার বুকে যে লিখিলে লেখা! মাঝে বহে স্রোত, দু-কূল জুড়িয়া চরণ-স্মরণ-রেখা। বন্যার ঢল, জোয়ার, উজান আসে যায় ফিরে ফিরে, ও চরণ-লেখা মুছিল না মোর বালুচরে নদীতীরে! ঊর্ধ্বে...

দীওয়ান–ই–হাফিজ

দীওয়ান–ই–হাফিজ গজল ১ হাঁ, এয় সাকি , শরাব ভর্ লাও বোলাও পেয়ালী চালাও হর্‌দম্! প্রথম প্রেম-পথ সহজ-সুন্দর, শেষের দিক তা-র ঢালাও-কর্দম! কসম তার ভাই ভোরের বায় ভায় অলক-গুচ্ছের যে-বাস কান্তার, বহুত দিল্ খুন করলে কুন্তল কপোল-চুম্বী চপল ফাঁদদার। যদিই ক-ন তোর সাগ্নিক ওই পির...

প্রিয়ার দেওয়া শরাব

প্রিয়ার দেওয়া শরাব কোঁকড়া অলক মূর্ছেছিল ঘাম-ভেজা লাল গাল ছুঁয়ে, কাঁপছিল, সে যায় যেন বায় ঝাউ-এর কচি ডাল নুয়ে। কম্পিত তার আকুল অধর-পিষ্ট ক্লেশে সামলে নে শরাব-ভরা সোরাই হাতে গভীর রাতে নামলে সে। দরদ-ভিজা মিহিন সুরে গাইল গজল আপশোশের, চোখ দুটি নীর-সিক্ত যেন ফাগুন-বুকে ছাপ...

বাঁশির ব্যথা

বাঁশির ব্যথা (রুমী) শোন দেখি মন বাঁশের বাঁশির বুক ব্যেপে কী উঠছে সুর, সুর তো নয় ও, কাঁদছে যে রে বাঁশরি বিচ্ছেদ-বিধুর॥ কোন অসীমের মায়াতে সসীম তার এই কায়াতে, এই যে আমার দেহ-বাঁশি, কান্না সুরে গুমরে তায়, হায়রে, সে যে সুদূর আমার অচিন-প্রিয়ায় চুমতে চায়। প্রিয়ায় পাবার ইচ্ছে...

মুক্তি

মুক্তি রানিগঞ্জের অর্জুনপটির বাঁকে যেখান দিয়ে নিতুই সাঁঝে ঝাঁকে ঝাঁকে রাজার বাঁধে জল নিতে যায় শহুরে বউ কলস কাঁখে – সেই সে বাঁকের শেষে তিন দিক হতে তিনটে রাস্তা এসে ত্রিবেণির ত্রিধারার মতো গেছে একেই মিশে। তেমাথার সেই ‘দেখাশুনা’ স্থলে বিরাট একটা নিম্ব গাছের তলে, জটওয়ালা...

সুন্দরী

সুন্দরী সুন্দরী গো সুন্দরী! ঘরটি তোমার কোন-দোরি? সুন্দরী গো সুন্দরী! কোন সে পথের বাঁকটিতে কলসি নিয়ে কাঁখটিতে, থমকে যাও আর চমকে চাও দুলিয়ে বাহু কুন্দরি? সুন্দরী গো সুন্দরী! কুঞ্জি কই সে কুঞ্জরী – যার হিয়াটি চঞ্চলে আকুল তোমার অঞ্চলে? সাতনরি আর পাঁচনরি হার কোন পথে যায়...