ছন্দের বন্যা হরিণী অরণ্যা

ইমন মিশ্র কাওয়ালি ছন্দের বন্যা হরিণী অরণ্যা নাচে গিরিকন্যা চঞ্চল ঝরনা। নন্দনপথ-ভোলা চন্দনবর্ণা॥ গাহে গান ছায়ানটে, পর্বতে শিলাতটে, লুটায়ে পড়ে তীরে শ্যামল ওড়না॥ ঝিরিঝিরি হাওয়ায় ধীরিধীরি বাজে তরঙ্গ-নূপুর বনপথ-মাঝে। এঁকেবেঁকে নেচে যায় সর্পিল ভঙ্গে কুরঙ্গ সঙ্গে অপরূপ...

চমকে চমকে ধীর ভীরু পায়

আরবি (নৃত্যের) সুর কাহারবা চমকে চমকে ধীর ভীরু পায় পল্লিবালিকা বন-পথে যায়। একেলা বন-পথে যায়॥ শাড়ি তার কাঁটা-লতায়, জড়িয়ে জড়িয়ে যায়, পাগল হাওয়াতে অঞ্চল লয়ে মাতে – যেন তার তনুর পরশ চায়॥ শিরীষের পাতায় নূপুর, বাজে তার ঝুমুর ঝুমুর, কুসুম ঝরিয়া মরিতে চাহে তার কবরীতে, পাখি গায়...

নন্দলোক হতে আমি এনেছি রে মহামায়ায়

নন্দলোক হতে আমি এনেছি রে মহামায়ায়। বন্ধ যথায় বন্দি যত কংস রাজার অন্ধ কারায়॥ বন্দি জাগো! ভাঙো আগল ফেল রে ছিঁড়ে পায়ের শিকল বুকের পাষাণ ছুঁড়ে ফেলে মুক্তলোকে বেরিয়ে আয়॥ আমার বুকের গোপালকে রে রেখে এলাম নন্দালয়ে, সেইখানে সে বংশী বাজায় আনন্দে গোপ-দুলাল হয়ে। মা-র আদেশে বাজাবে...

আমি সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি

বেহাগ দাদরা আমি সুন্দর নহি জানি হে বন্ধু জানি। তুমি সুন্দর, তব গান গেয়ে নিজেরে ধন্য মানি॥ আসিয়াছি সুন্দর ধরণিতে সুন্দর যারা তাদেরে দেখিতে রূপ-সুন্দর দেবতার পায়ে অঞ্জলি দিই বাণী॥ রূপের তীর্থে তীর্থ-পথিক যুগে যুগে আমি আসি ওগো সুন্দর, বাজাইয়া যাই তোমার নামের বাঁশি। পরিয়া...

আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরি

খাম্বাজ-পিলু – দাদরা আমার কোন কূলে আজ ভিড়ল তরি এ কোন্ সোনার গাঁয়। আমার ভাটির তরি আবার কেন উজান যেতে চায়॥ আমার দুঃখের কাণ্ডারি করি আমি ভাসিয়েছিলাম ভাঙা তরি, তুমি ডাক দিলে কে স্বপনপরি নয়ন-ইশারায়॥ আমার নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি ডেকেছিল ঝড়ের রাতি, তুমি কে এলে মোর সুরের সাথি...

বুলবুলি নীরব নার্গিস-বনে

নৌরোচ্‌কা – তেতালা বুলবুলি নীরব নার্গিস-বনে ঝরা বন-গোলাপের বিলাপ শোনে॥ শিরাজের নওরোজে ফাল্গুন মাসে যেন তার প্রিয়ার সমাধি পাশে তরুণ ইরান-কবি কাঁদে নিরজনে॥ উদাসীন আকাশ থির হয়ে আছে জল-ভরা মেঘ লয়ে বুকের কাছে। সাকির শারাবের পিয়ালার পরে সকরুণ অশ্রুর বেলফুল ঝরে চেয়ে আছে ভাঙা...

এ নহে বিলাস বন্ধু, ফুটেছি জলে কমল

মান্দ্ — কাহারবা এ নহে বিলাস বন্ধু, ফুটেছি জলে কমল। এ যে ব্যথা-রাঙা হৃদয় আঁখি-জলে-টলমল॥ কোমল মৃণাল-দেহ ভরেছে কণ্টক-ঘায়, শরণ লয়েছি গো তাই শীতল দিঘির জল॥ ডুবেছি এ কালো নীরে কত যে জ্বালা সয়ে, শত ব্যথা ক্ষত লয়ে হইয়াছি শতদল॥ আমার বুকের কাঁদন তুমি বল ফুল-বাস, ফিরে যাও, ফেলো...

মুসাফির মোছ এ আঁখি জল

বারোয়াঁ — কাহারবা মুসাফির! মোছ এ আঁখি জল ফিরে ছল আপনারে নিয়া। আপনি ফুটেছিল ফুল গিয়াছে আপনি ঝরিয়া॥ রে পাগল! এ কী দুরাশা, জলে তুই বাঁধিবি বাসা! মেটে না হেথায় পিয়াসা হেথা নাই তৃষ্ণা-দরিয়া॥ বরষায় ফুটল না বকুল পউষে ফুটবে কি সে ফুল, এ দেশে ঝরে শুধু ভুল নিরাশার কানন ভরিয়া॥...

সাজিয়াছ যোগী বলো কার লাগি

যোগিয়া — ঝাঁপতাল সাজিয়াছ যোগী বলো কার লাগি তরুণ বিবাগি॥ হেরো তব পায়ে কাঁদিছে লুটায়ে নিখিলের পিয়া তবে প্রেম মাগি তরুণ বিবাগি॥ ফাল্গুনে কাঁদে দুয়ারে বিষাদে খোলো দ্বার খোলো! যোগী, যোগ ভোলো! এত গীতহাসি সব আজি বাসি, উদাসী গো জাগো! নব অনুরাগে জাগো অনুরাগী তরুণ...

কেন আসিলে যদি যাবে চলি

(দিনের) দুর্গা — আদ্ধা কাওয়ালি কেন আসিলে যদি যাবে চলি গাঁথিলে না মালা ছিঁড়ে ফুল-কলি॥ কেন বারেবারে আসিয়া দুয়ারে ফিরে গেলে পারে কথা নাহি বলি॥ কী কথা বলিতে আসিয়া নিশীথে শুধু ব্যথা-গীতে গেলে মোরে ছলি॥ প্রভাতের বায়ে কুসুম ফুটায়ে নিশীথে লুকায়ে উড়ে গেল অলি॥ কবি শুধু জানে,...
পাতা 1/8812345...102030...শেষ »