গেড়ে গাঙ্গেরে ক্ষেপা হাপুর হুপুর ডুব পাড়িলে ।
এও তো মজা যাবে জানা কার্তিকে ওলানির কালে।।

বাই চালা দেয় ঘড়ি ঘড়ি
ডুব পাড় গা তাড়াতাড়ি
তাইতে হল কাফের নাড়ি
তাইতো হানা দেয় আমারে।।

কুতফি যখন কফের জালায়
তাগা তাবিজ বাঁধবি গলায়
তাতে কি হবে ভালাই
মস্তকের জল শুষ্ক হলে।।

ক্ষান্ত দে-রে ঝাপই খেলা
শান্ত হ-রে ও মন ভোলা
এখনও কি আছে বেলা
লালন কয়, দেখ চক্ষু মেলে।।

——————
বাউল কবি লালন শাহ, পৃষ্ঠা ২৮৭
গানটিতে কতক আঞ্চলিক শব্দ আছে; যেমন গেড়ে, হাপুর হুপুড় (তাড়াহুড়ো), ওলানি, বাই, কুফতি (কাসি দেয়া), ঝাপই খেলা (এক প্রকার পানির খেলা) ইত্যাদি, শব্দগুলো প্রয়োগ-দক্ষতা অসাধারণ। ‘হারামণি’ ১ম খণ্ডে গানটি সংকলিত হয়েছে বিকৃতভাবে। পাঠকের অবগতির জন্য তা সম্পুর্ণ উদ্ধৃত হল :

কেরে গাঙের ক্ষ্যাপা হাবুর হুবুর
ডুব পাড়লে।
পাপ করে কি ভাবছো মনে
কার্তিক ওলানের কালে।।
কুতবি যখন কফের জ্বালায়
কত তাবিজ তাগা বাঁধবি গলায়
তাতে কি তোর ভাল হবে
মস্তকের জল শুষ্ক হলে।।
বাই ছলা দেয় তড়িঘড়ি
ডুব পাড় গে তাড়াতাড়ি
অধীর লালন বলে, ডুবল বেলা
দেখলি নারে চক্ষু মেলে।।- পৃষ্ঠা ৫২

এরূপ অসম্পূর্ণ ও বিকৃত পাঠ গ্রহণযোগ্য নয়।
কথান্তর :

গেড়ে গাঙ্গেরে ক্ষ্যাপা
হাপুর হুপুর ডুব পড়িলে।
হায় কি মজা যাবে বুঝা
কার্তিকের উলানীর কালে।।
কুঁতপি যখন কফের জ্বালায়
তাবিজ তাগা বাঁধবি গলায়।
তাতে কি হবে ভালায়
মস্তকের জল শুষ্ক হলে।।
বায় চালা দেয় ঘড়িঘড়ি
ডুব পাড়িস কেন তাড়াতাড়ি।
প্রবল হবে কফের নাড়ি
যাতে হানি জীবন মূলে।।
ক্ষান্ত দে রে ঝাঁপই খেলা
শান্ত হও রে, ও মন ভোলা।
লালন কয়, আছে বেলা
দেখলি নারে চক্ষু মেলে।।–লালন সঙ্গীত, পৃষ্ঠা ২২১

%d bloggers like this: