কি সাধনে আমি পাই গো তারে।
ও সে ব্ৰহ্মা বিষ্ণু ধ্যানে পায় না যারে।।
শূন্য শিখর যার নির্জন গোফা
স্বরূপে সেই তো চন্দ্রের আভা
ও সে আভা ধরতে চাই
হাতে নাহি পাই
কেমনে সে রূপ যায় গো সরে।।

জেনে শাস্ত্র ভাল কেহ কেহ
পঞ্চতাত্ত্বিক হলে জানতে পায় সেহি
ও সে পঞ্চতত্ত্বের ঘর
সেও তো অন্ধকার
নিরপেক্ষ সেই হয় বিচারে।।

গুরুপদে আজ হইত মরণ
তবে বুঝি সফল হইত জীবন
ভাবিয়ে লালন কহে
ও রে আমার ভাগ্যে
তা তো ঘটল নারে।।

———————
লালন-গীতিকা, পৃ. ১৭০
রবীন্দ্র-সদনে রক্ষিত খাতায় (খাতা-২/গান-১৭২) ধুয়া ও অন্তরা সংকলিত হয়েছে। এখানে অন্তরার ১ম চরণে ‘শূন্য শিখর’ স্থলে ‘স্বর্ণ শিখর’ কথান্তর আছে। – লালন ফকির : কবি ও কাব্য, পৃ. ১৮৯। ‘বাংলার বাউল ও বাউল গানে’ ধুয়া ও অন্তরা ছাড়াও নিম্নরূপ আভোগ স্তবকটি সংকলিত হয়েছে :
তিন রসের সাধন কর
রূপ-স্বরূপের তত্ত্ব ধর
লালন কয়, তবে যদি পার
প্ৰাণ জুড়াতে সে রূপ হেরে।। – পৃ. ৫৮
বলা বাহুল্য, মতিলাল দাশের সংগ্রহের সাথে এর কোন মিল নেই। স্তবক-বিন্যাসেও ঈষৎ পার্থক্য আছে।