সিদ্ধি, জবাকুসুম সংকাশ

সিদ্ধি, জবাকুসুম সংকাশ মাথার পিছনে ফেটে পড়ে দপ করে জ্বলে পূর্বাকাশ (…?) মাথায় রক্ত চড়ে সিদ্ধি, মহাদ্যুতি–তার মুখে চূর্ণ হয় যশের হাড়মাস হোমাগ্নিপ্রণীত দুটি হাত আমাতে সংযুক্ত হয়, বলে: বল তুই এই জলেস্থানে কী চাস? কেমনভাবে চাস? আমি নিরুত্তর থেকে দেখি সূর্য...

তারাখণ্ড সমুদ্রে পড়েছে

……………..তারাখণ্ড সমুদ্রে পড়েছে তার আগে আকাশে লম্বা আগুনের ল্যাজ–একপলক তার আগে ঝলকে সাদা গাছপালা ভূখণ্ড পাহাড়–একপলক উড়তে উড়তে ফ্রিজ করছে সরীসৃপ পাখি পৃথিবী ধ্বংসের ঠিক একপলক দেরি মৃত্যুর আগের স্বপ্নে এই দৃশ্য ফিরে আসে, সেই থেকে,...

সমুদ্র? না প্রাচীন ময়াল?

সমুদ্র? না প্রাচীন ময়াল? পৃথিবী বেষ্টন করে শুয়ে আছে। তার খোলা মুখের বিবরে অন্ধকার। জলের গর্জন। ঐ পথে সমস্ত প্রাণীজগৎ নিজের অজান্তে গিয়ে ঢোকে তুমি ওই বনের সীমায় গাছে পিঠ রেখে বসে প্রাণত্যাগ করার মুহূর্তে চোখ স্থির করছো সেই ময়ালের জ্বলজ্বলে চোখে এতদিন পর দেখছো সে আসলে...

আমার স্বপ্নের পর স্বপ্ন হল আরো বেলা যেতে

আমার স্বপ্নের পর স্বপ্ন হল আরো বেলা যেতে আমাকে ধ্বংসের পর ধ্বংসক্ষেত্রে বর্ণনার শেষে শান্তি নেমে চলে গেল, মৃতদেহ টপকে টপকে, দূর তেপান্তরে… তার, গা থেকে স্ফুলিঙ্গ হয়ে তখনও ঝলক দিচ্ছে রক্ত আর উল্লাসের ছিটে। দিগন্তে মেঘের কুণ্ড। থেমে থাকা ঝড়… আমাকে দৃশ্যের পর...

জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়ছে

জ্বলতে জ্বলতে পাখি পড়ছে জ্বলে 'ছ্যাৎ' আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙে কোটি কোটি যুগ পরেকার ঘুম, যার মাথার ওপরে হা করা আকাশগর্ত, লৌহমেঘ, আর তার নিচে, ঘুরতে ঘুরতে, ক্রমশ তলিয়ে যাওয়া পৃথিবীর নিঃশব্দ...

আমি তো আকাশসত্য গোপন রাখিনি

আমি তো আকাশসত্য গোপন রাখিনি খুলে দ্যাখো পাখির কঙ্কাল। নীচের প্রান্তরে উড়ত পাখি ও পাখিনী অনেক উপরে ঢালু বাটির মতন শূন্য ধ’রে আমি তার ছায়াচিত্র তুলে রাখতাম। এ দৃশ্য যে দেখেছিল তার মধ্যে থেকে আজ আর আলো অব্দি বেরোতে পারে না। সেখানে দিবস রাত্রি নেই, শুধু জমে থাকা...

তুমি কি বিশ্বাসহন্তা

তুমি কি বিশ্বাসহন্তা? না, তুমি বিশ্বাসী? তোমার পিছনে ঘুরছে জাঁতা ও আগুনচক্র তোমার সম্মুখে উড়ছে সোনার পতঙ্গ আর ডানামেলা বাঁশি… মাঝখানে অশ্বত্থগাছ। মাঝখানে দড়ি আর...

নৌকো থেকে বৈঠা পড়ে যায়

নৌকো থেকে বৈঠা পড়ে যায় জলের তলায় কালো ছাইরঙা জল একবার ঢেউ দিয়ে অন্ধকার এখন কোথায় আছে সেই বৈঠাখানি? দুটো কৌতুহলী মাছ, দু’ খণ্ড পাথর, লক্কড়, সাইকেল ভাঙা গোল আংটির পাশে পাঁকে গাঁথা চারানা আট আনা। অন্ধকারে ওদের চোখ জ্বলে। এই জলে থেকে থেকে এখন ওরাও কোনো প্রাণী।...

এই শেষ পায়রা

এই শেষ পায়রা। এই শেষ শান্তির পতাকা। ঘাড়ে পোঁতা। কিন্তু তার ছুঁচালো লোহার দণ্ড ঘাড়ে ঢুকে থামে না--এগোয়। খোঁজে শিরদাঁড়া--ইলেকট্রোড। পায়। ছোঁয়। গর্ত করে আর দিন চলে যায় শতলক্ষ বছরের পার তারপর যারা আসে, তারা দেখে বসে আছে একটু মনুষ্যমূর্তি, কাঁধে পাখি-- দুজনই...

ওরা ভস্মমুখ

ওরা ভস্মমুখ। ওরা নির্বাপিত। ওরা ধূম্রনাসা কাঠ অনেক পাঁকের নীচে আধপোড়া কাঠ হয়ে ওরা পালিয়ে ঘুরেছে কতক্ষণ। এক একটি ক্ষণের সঙ্গে এক এক শতক পার হল এখন আমার কাজ ওদের বিছানাগুলি খোঁড়া ওদের সযত্নে শুইয়ে গায়ে চাপা দেওয়া চাদর কম্বল নয়–মাটি ওরা মা বাবার মতো। ওদের অস্থি-র...
পাতা 1/912345...শেষ »