অনুপম ত্রিবেদী

এখন শীতের রাতে অনুপম ত্রিবেদীর মুখ জেগে ওঠে। যদিও সে নেই আজ পৃথিবীর বড়ো গোল পেটের ভিতরে সশরীরে; টেবিলের অন্ধকারে তবু এই শীতের স্তব্ধতা এক পৃথিবীর মৃত জীবিতের ভিড়ে সেই স্মরণীয় মানুষের কথা হৃদয়ে জাগায়ে যায়; টেবিলে বইয়ের স্তুপ দেখে মনে হয় যদিও প্লেটোর থেকে রবি ফ্রয়েড নিজ...

সুবিনয় মুস্তফী

সুবিনয় মুস্তফীর কথা মনে পড়ে এই হেমন্তের রাতে। একসাথে বিড়াল ও বিড়ালের-মুখে-ধরা-ইঁদুর হাসাতে এমন আশ্চর্য শক্তি ছিল ভূয়োদর্শী যুবার। ইঁদুরকে খেতে-খেতে শাদা বিড়ালের ব্যবহার, অথবা টুকরো হ’তে-হ’তে সেই ভারিক্কে ইঁদুর, বৈকুন্ঠ ও নরকের থেকে তা’রা দুই জনে কতোখানি দূর ভুলে গিয়ে...

মনোকণিকা (অসম্পূর্ণ)

একটি বিপ্লবী তার সোনা রুপো ভালোবেসেছিলো; একটি বণিক আত্মহত্যা করেছিলো পরবর্তী জীবনের লোভে; একটি প্রেমিক তার মহিলাকে ভালবেসেছিলো; তবুও মহিলা প্রীত হয়েছিলো দশজন মূর্খের বিক্ষোভে। বুকের উপরে হাত রেখে দিয়ে তারা নিজেদের কাজ করে গিয়েছিলো সব। অবশেষে তারা আজ মাটির ভিতরে অপরের...

ঘাস

কচি লেবুপাতার মতো নরম সবুজ আলোয় পৃথিবী ভরে গিয়েছে এই ভোরের বেলা; কাঁচা বাতাবীর মতো সবুজ ঘাস—তেমনি সুঘ্রাণ— হরিণেরা দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে নিচ্ছে! আমারো ইচ্ছে করে এই ঘাসের এই ঘ্রাণ হরিৎ মদের মতো গেলাসে-গেলাসে পান করি, এই ঘাসের শরীর ছানি—চোখে ঘষি, ঘাসের পাখনায় আমার পালক, ঘাসের...

ঘাটশিলা—ঘটশিলা—

ঘাটশিলা—ঘটশিলা— কলকাতা ছেড়ে বল ঘাটশিলা কে যায় মিছাই চিরদিন কলতাকা থাকি আমি, ঘাটশিলা ছাই। চিঠির উপরে তবু চিঠি কয়েকটা দিন এইখানে এসে তুমি থেকে যাও চিঠিগুনো হয়ে গেল পুরোনো মলিন তবু আমি গেলাম না যদিও দেখেছি আমি কলকাতা থেকে কত দিন কত রাত ঘাটশিলা গিয়েছে অনেকে একদিন...

চিরদিন শহরেই থাকি

চিরদিন শহরেই থাকি পড়ে থাকি পাটের আড়তে করি কেরানির কাজ—শুভে-লাভে যদি কোনোমতে দিন যায় চ’লে আকাশের তলে নক্ষত্রেরা কয় কোন্‌ কথা জোৎস্নায় প্রাণের জড়তা ব্যথা কেন পায় সে সব খবর নিয়ে কাজ কিবা হায় বিয়ে হয়েছিল কবে—মরে গেছে বউ যদিও মহুয়া গাছে ফুটে ওঠে মৌ একবার ঝরে গেলে তবু তারপর...

গল্পে আমি পড়িয়াছি কাঞ্চী কাশী বিদিশার কথা

গল্পে আমি পড়িয়াছি কাঞ্চী কাশী বিদিশার কথা কোনদিন চোখে দেখি নাই একদিন ভাবিলাম মাঠে মাঠে কুয়াশায় যদি আমি কোনোদিন বিদিশায় যাই— মাঠে মাঠে কুয়াশায় ভাবিলাম এই কথা বহু দিন বহু বহু রাত ধ’রে আমি যদি আমি—কোনোদিন যদি আমি অবন্তীর পথে গিয়ে নামি— পউষের কুয়াশায় সাপের খোলস,...

সন্ধ্যা হয়ে আসে

সন্ধ্যা হয়ে আসে—সন্ধ্যা হয়ে আসে একা একা মাঠের বাতাসে ঘুরি আমি—বসি আমি ঘাসে ওই দূরে দেখা যায় কার লাল পাড় প্রসাদের বউ বুঝি—পাশে বুঝি তার প্রসাদ রয়েছে বসে-বাড়িতেছে সন্ধ্যার আঁধার বছর আরেক হ’ল হয়েছিলো দু’জনের বিয়ে মনে পড়ে; তারপর কুড়িয়ে-বাড়িয়ে আজো তারা যায় নি...

কেমন বৃষ্টি ঝরে

কেমন বৃষ্টি ঝরে—মধুর বৃষ্টি ঝরে—ঘাসে যে বৃষ্টি ঝরে—রোদে যে বৃষ্টি ঝরে আজ কেমন সবুজ পাতা—জামীর সবুজ আরও—ঘাস যে হাসির মতো—রোদ যে সোনার মতো ঘাসে সোনার রেখার মতো—সোনার রিঙের মতো—রোদ যে মেঘের কোলে—তোমার গালের টোলে রোদ তোমার চুলে যে রোদ—মেঘের মতন চুলে—তোমার চোখে যে রোদ—সেও...

আকাশে চাঁদের আলো

১ আকাশে চাঁদের আলো—উঠোনে চাঁদের আলো—নীলাভ চাঁদের আলো—এমন চাঁদের আলো আজ বাতাসে ঘুঘুর ডাক—অশত্থে ঘুঘুর ডাক—হৃদয়ে ঘুঘু যে ডাকে—নরম ঘুঘুর ডাক আজ তুমি যে রয়েছ কাছে—ঘাসে যে তোমার ছায়া—তোমার হাতের ছায়া—তোমার শাড়ির ছায়া ঘাসে আকাশে চাঁদের আলো—উঠোনে চাঁদের আলো—নীলাভ চাঁদের...
Page 1 of 2812345...Last »