গীতারা কোথায় গেল

গীতারা কোথায় গেলো, আহা সেই পুতুলের মতো রাঙা টুকটুকে মেয়ে। দেখলে তাহারে মায়া মমতার ধারা বয়ে যায় সারা বুকখানি ছেয়ে, আদরি তাহারে কথা না ফুরায় কথার কুসুম আকাশে বাতাসে উঠে বেয়ে, দেখলে তাহারে ছাড়ায় ছড়ায় ছড়ায় যে মন গড়ায় ধরণী ছেয়ে। ওদের গ্রামের চারিদিক বেড়ি ঘিরেছে দস্যুদল,...

ধামরাই রথ

ধামরাই রথ, কোন অতীতের বৃদ্ধ সুত্রধর, কতকাল ধরে গড়েছিল এরে করি অতি মনোহর। সূক্ষ্ম হাতের বাটালি ধরিয়া কঠিন কাঠেরে কাটি, কত পরী আর লতাপাতা ফুল গড়েছিল পরিপাটি। রথের সামনে যুগল অশ্ব, সেই কত কাল হতে, ছুটিয়া চলেছে আজিও তাহারা আসে নাই কোন মতে। তারপর এলো নিপুণ পটুয়া, সূক্ষ্ম...

বঙ্গ-বন্ধু

(১৯৭১ সনের ১৬ই মার্চে লিখিত ) মুজিবর রহমান। ওই নাম যেন বিসুভিয়াসের অগ্নি-উগারী বান। বঙ্গদেশের এ প্রান্ত হতে সকল প্রান্ত ছেয়ে, জ্বালায় জ্বলিছে মহা-কালানল ঝঞঝা-অশনি বেয়ে । বিগত দিনের যত অন্যায় অবিচার ভরা-মার। হৃদয়ে হৃদয়ে সঞ্চিত হয়ে সহ্যে অঙ্গার ; দিনে দিনে হয়ে বর্ধিত...

হেলেনা

নতুন নাতিনী, সুচারু হাসিনী, মধুর ভাষিনী ললনা, হলুদে চুনেতে মিশাতে কিছুতে হয় না তাহার তুলনা। তাহার নাসাতে কি যেন ভাষাতে ভোমর গাহিছে গহনা, যুগল আঁখির কাজল দীঘির নীরে বিজলীর নাহনা। জোড়া সে ভুরুতে যুগল ধনুতে চাহনী-তীর যে যোজিত, যাহার উপরে হানিবে সেহরে হইবে জীবনে বষিত।...

কবিতা

তাহারে কহিনু, সুন্দর মেয়ে! তোমারে কবিতা করি, যদি কিছু লিখি ভুরু বাঁকাইয়া রবে না ত দোষ ধরি।” সে কহিল মোরে, “কবিতা লিখিয়া তোমার হইবে নাম, দেশে দেশে তব হবে সুখ্যাতি, আমি কিবা পাইলাম ?” স্তব্ধ হইয়া বসিয়া রহিনু কি দিব জবাব আর, সুখ্যাতি তরে যে লেখে কবিতা, কবিতা হয় না তার।...

উপহার

ফুলদিয়ে গেলে মেয়ে! এরে রাখিব কেমন ছলে, এরে মালায় পরিলে জ্বালা গলে শৃঙ্খল হযে দোলে। এরে ধরিতে ছুঁইতে করে এ যে, ভোরের শিশির ফোঁটা এ যে, খনেক জীবন ধরে। এরে, পাইয়া কপাল পোড়া, কাঁদিয়া জনম যায়, এরে, আঁখির জলের ধারে খনেক বাঁচান দায়। ফুল ত দিলে না বালা দিলে, স্মৃতির বিরহ...

আগমনী

আজ তুমি আসিবে যে মেয়ে, সেই ডোবা পুকুরের পানা পুকুরের, কলমীলতার জাল দিয়ে ঘেরা পানি- সেই সে পানিতে নেয়ে। মনে যদি হয় কলমী ফুলের কতকটা রঙ লইও অধরে মেখে, ঠোটেতে মাখিও আর একটুকু হাসি লাল সাপলার ফোটা ফুলগুলি দেখে। যদি মনে হয় সিক্ত বসনে একটু দাঁড়িও ও অঙ্গ বেয়ে ঝরিবে সজল সোনা,...

অনুরোধ

ছিপ ছিপে তার পাতলা গঠন, রাঙা যে টুকটুক সোনা রূপায় ঝলমল দেখলে তাহার মুখ। সেই মেয়েটি বলল মোরে দিয়ে একখান খাতা, সেই মেয়েটি বলল মোরে দিয়ে একখান খাতা, লিখো কবি ইহার মাঝে যখন খুশী যা তা। উত্তরে তায় কইনু আমি, এই যে রূপের তরী, বেয়ে তুমি চলছ পথে আহা মরি মরি। যে পথ দিয়ে যাও সে...

সীবন-রতা

সেলাই করিছে মেয়ে, জাম-দানী শাড়ী রেখায় হাসিছে সোনার অঙ্গ ছেয়ে। এক পাশ হইতে দেখিতেছি তারে, বাঁকাধনু নাসিকায় ভূরু-তীর দুটি সদা উদ্যত বধিতে কে অজানায়। আঁখি সরোবর স্তব্ধ নিঝুম, মৃদু পলকের ঘায়ে, ঢেউ-হংসীরা বিরাম লভিছে কাজল রেখায় গাঁয়ে। অধরখানিতে যুগল ঠোঁটের রঙিন বাঁধন খুলি,...

হলুদ বাঁটিছে মেয়ে

হলুদ বাঁটিছে হলুদ বরণী মেয়ে, হলুদের পাটা হাসিয়া গড়ায় রাঙা অনুরাগে নেয়ে। দুই হাতে ধরি কঠিন পুতারে ঘসিছে পাটার পরে, কাঁচের চুড়ী যে রিনিক ঝিনিকি নাচিছে খুশীর ভরে। দুইটি জঙ্ঘা দুইধারে মেলা কাঠ-গড়া কামনার, তাহার উপর উঠিতে নামিতে সোনার দেহটি তার; মর্দ্দিত দুটি যুগল সারসী...
পাতা 1 / 1112345...10...শেষ »