বাদশাহী আংটি (১৯৬৬)

বাদশাহী আংটি। প্রথম প্ৰকাশ: সন্দেশ, বৈশাখ-চৈত্র ১৩৭৩, বৈশাখ ১৩৭৪।। গ্রন্থাকারে প্রকাশ; আশ্বিন ১৩৭৬। আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড; প্রচ্ছদ ও অলংকরণ: সত্যজিৎ রায়। ফেলুদার সপ্তকাণ্ড গ্রন্থে সংকলিত। প্রথম সংস্করণ: নভেম্বর ১৯৯৮)। আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড।

০১. বাদশাহী আংটি

বাদশাহী আংটি বাবা যখন বললেন, তোর ধীরুকাকু অনেকদিন থেকে বলছেন—তাই ভাবছি এবার পুজোর ছুটিটা লখ্‌নৌতেই কাটিয়ে আসি—তখন আমার মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আমার বিশ্বাস ছিল লখ্‌নৌটা বেশ বাজে জায়গা। অবিশ্যি বাবা বলেছিলেন ওখান থেকে আমরা হরিদ্বার লছমনঝুলাও ঘুরে আসব, আর লছমনঝুলাতে পাহাড়ও আছে—কিন্তু সে আর কদিনের জন্য? এর আগে প্রত্যেক ছুটিতে দার্জিলিং না হয় পুরী […]

০২. পরদিন দুপুরে

পরদিন দুপুরে পরদিন দুপুরে একটু তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে আমরা ইমামবড় দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। বাবা আর ধীরুকাকা মোটরে গেলেন। গাড়িতে যদিও জায়গা ছিল, তবু ফেলুদা আর আমি দুজনেই বললাম যে আমরা টাঙ্গায় যাব। সে দারুণ মজা। কলকাতায় থেকে তো ঘোড়ার গাড়ি চড়াই হয় না। সত্যি বলতে কী, আমি কোনও দিনই কোনওরকম ঘোড়ার গাড়ি চড়িনি। ফেলুদা অবিশ্যি […]

০৩. বনবিহারীবাবুর বাড়িতে

বনবিহারীবাবুর বাড়িতে বনবিহারীবাবুর বাড়িতে পৌঁছতে প্রায় চারটে বাজল। বাইরে থেকে বোঝার কোনও উপায় নেই যে ভিতরে একটা চিড়িয়াখানা আছে, কারণ যা আছে তা বাড়ির পিছন দিকটায়। মিউটিনিরও প্রায় ত্রিশ বছর আগে এক ধনী মুসলমান সওদাগর এ বাড়ি তৈরি করেছিলেন বনবিহারীবাবু বললেন। আমি বাড়িটা কিনি এক সাহেবের কাছ থেকে। দেখেই বোঝা যায় বাড়িটা অনেক পুরনো। আর […]

০৪. পরদিন সকালে

পরদিন সকালে পরদিন সকালে মনে হল যে শীতটা একটু বেড়েছে, তাই বাবা বললেন গলায় একটা মাফলার জড়িয়ে নিতে। বাবার কপালে ভ্রূকুটি আর একটা অন্যমনস্ক ভাব দেখে বুঝতে পারছিলাম যে উনি খুব ভাবছেন। ধীরুকাকাও কোথায় জানি বেরিয়ে গেছেন—আর কাউকে কিছু বলেও যাননি। কালকের ঘটনার পর থেকেই কেবল বললেন—শ্ৰীবাস্তবকে মুখ দেখাব কী করে? বাবা অবিশ্যি অনেক সাস্তুনা […]

০৫. রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার পর

রাত্রে খাওয়া–দাওয়ার পর রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার পর ফেলুদা হঠাৎ বলল, তোপ্‌সে, কী মনে হচ্ছে বল তো? আমি বললাম, কীসের কী মনে হচ্ছে? এই যে-সব ঘটনা ঘটছে-টটছে। বারে বা, সে তো তুমি বলবে। আমি আবার কী করে বলব? আমি কি ডিটেকটিভ নাকি? আর সন্ন্যাসীটা কে, সেটা না জানা অবধি তো কিছুই বোঝা যাবে না। কিন্তু কিছু কিছু […]

০৬. টাঙ্গায় উঠে ফেলুদা

টাঙ্গায় উঠে ফেলুদা টাঙ্গায় উঠে ফেলুদা গাড়োয়ানকে বলল, হজরতগঞ্জ। আমি বললাম, সেটা আবার কোন জায়গা? এখানকার চৌরঙ্গি। শুধু নবাবি আমলের জিনিস ছাড়াও তো শহরে দেখবার জিনিস আছে। আজ একটু দোকান-টোকান ঘুরে দেখব। গতকাল রেসিডেন্সি থেকে আমরা বনবিহারীবাবুর বাড়িতে কফি খেতে গিয়েছিলাম। সেই সুযোগে ওঁর চিড়িয়াখানাটাও আরেকবার দেখে নিয়েছিলাম। সেই হাইনা, সেই র‍্যাট্‌ল স্নেক, সেই মাকড়সা, […]

০৭. হরিদ্বার যেতে হয় ডুন এক্সপ্রেসে

হরিদ্বার যেতে হয় ডুন এক্সপ্রেসে হরিদ্বার যেতে হয় ডুন এক্সপ্রেসে। লখ্‌নৌ থেকে সন্ধ্যায় গাড়ি ছাড়ে, আর হরিদ্বার পৌঁছায় সাড়ে চারটায়। লখ্‌নৌ আসার আগে যখন হরিদ্বার যাবার কথা হয় তখন আমার খুব মজা লেগেছিল। কারণ পুরী ছাড়া আমি কোনও তীর্থস্থান দেখিনি। কিন্তু লখ্‌নৌতে এসে আংটির ব্যাপারটা ঘটে যাওয়ায় আর সে রহস্যের এখনও কোনও সমাধান না হওয়ায়, […]

০৮. সন্ধ্যা হয়ে এসেছে

সন্ধ্যা হয়ে এসেছে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। কামরার বাতিগুলো এইমাত্র জ্বলেছে। ট্রেন ছুটে চলেছে বেরিলির দিকে। কামরায় সবসুদ্ধ সাতজন লোক। আমি আর ফেলুদা একটা বেঞ্চিতে, একটায় বাবা আর শ্রীবাস্তব, আর তৃতীয়টায় বনবিহারীবাবু আর সেই সন্ন্যাসী। বাবাদের উপরের বাঙ্কে বনবিহারীবাবুর একটা কাঠের প্যাকিং কেস আর একটা বড় ট্রাঙ্ক রয়েছে। আমাদের উপরের বাঙ্কে একটা লোক আপাদমস্তক চাদর মুড়ি […]

০৯. পাণ্ডা চাই, বাবু পাণ্ডা

পাণ্ডা চাই, বাবু পাণ্ডা পাণ্ডা চাই, বাবু পাণ্ডা? বাবুর নামটা কী? নিবাস কোথায়? এই যে বাবু, এদিকে! কোন ধর্মশালায় উঠেছেন বাবু? বাবা দক্ষেশ্বর দর্শন হবে তো বাবু? প্ল্যাটফর্মে নামতে না নামতে পাণ্ডারা যে এভাবে চারিদিক থেকে ছেকে ধরবে সেটা ভাবতেই পারিনি। ফেলুদা অবিশ্যি আগেই বলেছিল যে এরকম হয়। আর এই সব পাণ্ডাদের কাছে নাকি প্রকাণ্ড […]

১০. ঝলমলে জিনিসটার কথা

ঝলমলে জিনিসটার কথা সারাদিনের মধ্যে একবারও ফেলুদাকে সেই ঝলমলে জিনিসটার কথা জিজ্ঞেস করার সুযোগ। পেলাম না! রাত্রে বাবা যদিও বললেন, তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়, ভোরে উঠতে হবে— তবুও খাওয়া-দাওয়া করে বিছানা পেতে শুতে শুতে প্রায় দশটা হয়ে গেল। লেপের তলায় যখন ঢুকছি, তখন আমাদের পাশাপাশি দুটো ঘরের মাঝখানের দরজা দিয়ে একটা বিকট নাক ডাকার আওয়াজ পেলাম। […]

১১. লছমনঝুলা যাব

লছমনঝুলা যাব আমরা আগেই ঠিক করেছিলাম যে প্রথমে লছমনঝুলা যাব, তারপর সেখানে বেশ কিছুক্ষণ থেকে দুপুরের খাওয়া সেরে ফেরার পথে হৃষীকেশট দেখে আসব। সত্যি বলতে কী, হৃষীকেশটা সম্বন্ধে আমার খুব বেশি উৎসাহ ছিল না। সেও তো তীর্থস্থান-পাণ্ডা ধর্মশালা অলিগলি ঘাট মন্দির, এই সব—কেবল গঙ্গাটা একটু অন্যরকম। বনবিহারীবাবু এখন ফেলুদার গানটা ধরেছেন— যব ছোড় চলে লখ্‌নৌ […]

১২. আংটিটা যে এবার ফেরত চাই

আংটিটা যে এবার ফেরত চাই আপনার আংটি? বনবিহারীবাবুর কথাটা যে ফেলুদাকে বেশ অবাক করেছে সেটা বুঝতে পারলাম। বনবিহারীবাবু ঠোঁটের কোণে পাইপ আর একটা অল্প হাসি নিয়ে চুপ করে বসে রইলেন। বাইরে বিবির শব্দ কমে এসেছে। ফেলুদা বলল— আর সে আংটি যে আমার কাছে রয়েছে তা আপনি কী করে জানলেন? বনবিহারীবাবু এবার কথা বললেন। অনুমান অনেক […]