কবিতা

রবীন্দ্রনাথ – কাইয়ুম চৌধুরী

রবীন্দ্রনাথ – কাইয়ুম চৌধুরী

রবীন্দ্রনাথ কাইয়ুম চৌধুরী অবনঠাকুরের সেই ছবিটি একতারা হাতে আলখাল্লা গায়ে রবীন্দ্রনাথ নেচে চলেছেন বাউলের সুরে একঠায়ে। লালনকে অনুভবে নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ তাঁর উদাস সুরে গানে গানে, উত্তাল পদ্মার বিশাল চরে— আপন করে, জীবনদর্শনে তাই হেরি তাই সকল খানে। সেই কুঠিবাড়ি হারিয়েছে তার বৈভব হারিয়েছে তার রং শিলাইদহ হারাচ্ছে তার গৌরব মর্মাহত তার বিমুগ্ধ গুণমুগ্ধ রবীন্দ্রনাথ কি […]

তমোহরের জন্মদিন – রুবী রহমান

পুচি বাবা, তোর গিটারখানা যে ধুলোয় লুটিয়ে কাঁদছে তুমি আজ নেই। তুমি নেই আজ। রটেছে এ সংবাদ যে। শরৎ আলোয় ঝলমল করা এ অক্টোবরে এসেছিলে তুমি আনন্দ গালে আমাদের ঘরে দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার ভারে অক্টোবর আজ কাঁপছে তমোহর তোর গিটার যে তাই মাটিতে লুটিয়ে কাঁদছে। সন্ধ্যা হলেই কান পেতে রাখি কলিং বেলের শব্দে আশা হয় […]

বাতাসে বাতাসে মানুষের দীর্ঘশ্বাস – সোহরাব হাসান

যে তুমি বাসোনি ভালো, সে তোমার ভালোবাসাহীন দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বেঁচে আছি। আজ ভালোবাসো নাই; একদিনবেসেছিলে সেই বাসা এখনো বুকের মাঝে চিনচিন করে বাজে যে তোমাকে ভালোবাসে, আমার কথা ভেবে না হয় তাঁকে একটু বেশি ভালোবেসে নিয়ো। অপটু শিকারির হাতে ধরা আত্মঘাতী তীরের মতো আমার ভালোবাসা আমাকেই বিদ্ধ করে চলেছে অবিরত ভালোবাসাহীন যে জীবন আমি বেছে […]

টোমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা

টোমাস ট্রান্সট্রয়মারের কবিতা অনুবাদ: আজীজ রহমান জনমানববিহীন সুইডিশ বাড়িগুলো কুয়াশার ঘোমটা পরা জ্যোৎস্নার নিচে জঙ্গলের আঙুলের ফাঁকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে দু-চারটা ছিমছাম বাড়ি আশপাশে কোথাও জনমানবের চিহ্ন নেই রৌদ্রাঘাতে শিশির ভাঙতে থাকে, সেই শব্দে ঘুম থেকে জেগে কোনো অশীতিপর যতক্ষণ না কাঁপা-কাঁপা হাতে একটা জানালা একটু খুলে দেবে আর সেই ফাঁকে বেরিয়ে যাবে এক […]

নগরকোট – কাইয়ুম চৌধুরী

বৃত্তাকারে ঘুরে গেছে পথ উঠছি ওপরে। ক্ষুদ্র হয়ে আসে অরণ্যানী জনবসতি। কঠিন বাঁক ঘুরলেই দেখি আকাশের গায়ে গিরিশ্রেণী। পরতে পরতে নীলাভ নীলের মাঝে সবুজ ছায়া। নিমেষে গাঢ়তর, বোতল সবুজ। সূর্য হেলে পশ্চিমে ক্রমান্বয়ে অন্ধকার গিরি, আকাশ ধূসর। ধেয়ে আসে মেঘের পর মেঘে ধূসর প্রলেপ পাহাড়ের গায়, মেঘ নিচে নামে, ক্রমশ: বিলীন পাহাড়ের সারি, অদৃশ্য লোকালয়। […]

অঘটন ঘটনপটিয়সী – উম্মে মুসলিমা

অঘটন ঘটনপটিয়সী উম্মে মুসলিমা জলবায়ু বিশারদেরা নারীবাদী না কি ঘোর পিতৃতান্ত্রিক ঠিক মালুম হচ্ছে না। তবে মাঝামাঝি যে নয় তা নিশ্চিত ক্যাটরিনা, নার্গিস, আইলা, লায়লা, আগাথা নামে ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের নাম যাঁরা রাখেন তাঁরা নারীবাদী হলে ভাবেন নারী আর কতকাল এমনধারা পড়ে পড়ে মার খাবে, এবার মার দিক। নারীর কী শক্তি এখন বোঝ্। ‘মা’ ‘মা’ ডেকে […]

পরিস্থিতি ২০১১ – টোকন ঠাকুর

পরিস্থিতি ২০১১ টোকন ঠাকুর ক্ষুধার্ত বাচ্চাদের জন্য আমি কীকরতে পারি? যদি ঘনজঙ্গলে যাই বাঘিনীর খপ্পরে পড়ি (হায়) বাঘিনী যদি আমাকে থাবায়, খায় তখন, দুধ হয়েপৌঁছুতে পারি মা-বাঘিনীর স্তনের বোঁটায় বন পর্যটকই একদিন মনোযোগ দেবে পড়ে থাকা কঙ্কালে, আমার হাড়ে ওই যে বাঘিনী আসছে এইবার, যেকোনো মুহূর্তেই, ক্ষুধার্ত বাচ্চারা জঙ্গলে কবিতা লিখতে আসা আমাকে খেয়ে ফেলতে […]

আরব বসন্ত : আরব দুনিয়ার কবিতা

শিল্পী: আদ দিজিন, আরব স্প্রিং ১০ জুন ২০১১ আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বয়ে যাচ্ছে বিপ্লবের ঝড়, যাকে উল্লেখ করা হচ্ছে আরব বসন্ত হিসেবে। সেসব দেশের সাহিত্যিকদের নিয়েই এ বিশেষ আয়োজন। আদোনিস আতঙ্ক একটা স্বপ্ন ওরা এল নগ্ন তছনছ করে ঢুকল বাড়িতে খুঁড়ল গর্ত পুঁতে ফেলল শিশুদের আর চলে গেল… নিউ ইয়র্কের জন্য একটি কবর বিদায়প্রহরের […]

উত্তরে – কাইয়ুম চৌধুরী

বৃষ্টিভেজা সবুজ গন্ধ জায়মান গোধূলি আলোয় ছায়াছায়া রোদে, বর্ণালি হরিৎ ঘিরে পাখি ফেরে নীড়ে কুয়াশাঘেরা দিগন্তপারে। হাওরজলে আকাশ তার ছায়া দেখে। ঢেউ তুলে ধেয়ে আসে কালো মেঘ, নৌকো ভাসায়— আকাশ নামে আলুথালু হাওরে, বৃষ্টি ঝরায়। চরাচরে শব্দহীন নীলে মেঘরাগ তোলে টংকার চারিধার। দূরাগত বৃষ্টির একটানা সুর ক্রমশ এগিয়ে আসে সদ্যভেজা পথ তড়িঘড়ি হয় পার— সাঁকো, […]

স্মরণ: তারেক মাসুদ – গৌতম চৌধুরী

মাটির পাখির কোনো খবর রাখি না, সে আছে বিলের ওই পারে আমাদের কাজ শুধু সাঁতারের পিছু পিছু জলের জালের নিচে ধাওয়া বাতাসের নিশানের ছেঁড়া কুচিগুলো ওড়ে মায়াবালকের মতো আমাদের কাজ শুধু পিছু পিছু, পাতাহীন চোখ খুলে যেভাবে ঘুমায় মাছ সারা দিন সারা রাত যেভাবে সে জেগে থাকে ছবি তুলে রাখে সেই পাখিটির খাঁচাটির বাতাসের শূন্যতার […]

মাটির ময়না – বিলোর চৌধুরী

আমাদের অচিন আয়নায়, যাঁদের হ্রস্ব ছায়া দীর্ঘতর শ্বাস ফেলে গেল; তাঁদের উদ্দেশে। কে জানে, যখন জেগে আছি আসলে তখনই আমরা মৃত। আত্মায় শব্দহীন শৈত্যের, নীল-চাপ; জীবনের পূর্ণ জাগরণ হয় তো, তখনই! ১৬ আগস্ট ২০১১ সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, আগস্ট ১৯, ২০১১

মহাভারতীয় আগুনের কাহিনি – অশোক দাশগুপ্ত

মূলত মহাভারত থেকেই কবিতাটার শুরু: ঋষিদের আশ্রমে এল পুলোমা রাক্ষস। ভৃগুপত্নী পুলোমাকে দেখে দাম্ভিক দানব স্মৃতিতে বোলায় চোখ। ঘরের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রজ্বলিত হোম। রাক্ষসের পেটে সোম। মনে পড়ে পুলোমাকে সেও চেয়েছিল। আগুনেরও সরব সাক্ষ্য: ‘এ কাহিনি ঘটেছিল সেই সেই কবে!’ বৃত্তান্ত শুনে ভৃগুর সরোষ অভিশাপ: ‘আগুন তুমি সর্বভুক হবে!’ তারপর অগ্নিহোত্র, যজ্ঞাদিক্রিয়ার আগুন নিভে গেলে ব্রহ্মার […]

এই শ্রাবণের বুকের ভিতর আগুন আছে – বেলাল চৌধুরী

সেই কবে ‘জ্যোতির্ময় রবি ও কালো মেঘের দল’ নামের একটি নাতিবৃহৎ বই হাতে এসেছিল— পাঠ শেষে এতটাই নির্বাক আর বাঙালি জিবের বিদ্বেষ-বিষের লালায় এতটাই আক্রান্ত হয়েছিলাম, কেন? বইটির শিরোনামই বলে দেয়; ‘জ্যোতির্ময় রবি’কে সারাটা জীবনে কতটা ঘাত-প্রতিঘাত সইতে হয়েছিল—সত্যি বলতে কি, রবি যখন আপন জ্যোতিতে দেদীপ্যমান তখন স্বদেশে তার সম্পর্কে কটু-কাটব্য, এমনকি ব্যক্তিগত শোক-দুঃখের মাঝেও […]

পণ – সুদীপ যোষ

সাবেকি থেকে আছে কতই বাংলার ঐতিহ্য; বিয়ের সময় মেয়ের সাথে দিতে সম্পদ-প্রাচুর্য। জ্ঞানী বলেন এটা অর্থ নয়কো, মেয়ের ভবিষ্যত সুখ আবরন; কেউ জানে কী, তা দিয়ে হয় ছেলের বিয়ের আয়োজন। পণের মাঝে দাবি থাকে, ছেলের দামি মোটরযান; পণের জন্যেই হারাতে হয় শেষে, মেয়েদের ফুল সুলভ প্রাণ। পণের এই পেট মোটা কলসি, ভরতে যারা নামে; তাদের […]

বিষণ্ন দুপুর – টোকন ঠাকুর

বাচ্চারা, সব তো সারি সারি বসে আছো ইশকুলের বেঞ্চিতে। জানো, তোমাদের পাছার নিচে পেতে দেওয়া ইত্যাকার চেয়ার-টেবিল-বেঞ্চির কাঠ একদা কখনো শুধু গাছ ছিল, বৃহত্তর বনভূমি ছিল, ছিল শাখা-প্রশাখার সঙ্গে পাখপাখালির, বাতাসবাহিত মূর্চ্ছনা? একটা সময় এবং একটা গাছই নাকি বলতে পারত মানুষের কমপক্ষে তিন প্রজন্মের কাহিনি, আনন্দ-বেদনার ভুলভুলাইয়া উপাখ্যান কিন্তু মানুষের গল্প বলতে পারা গাছগুলো এখন […]

মুক্তাগাছা – খোন্দকার আশরাফ হোসেন

মুক্তাগাছায় এসেছি। মুক্তাগাছা আসা খুব জরুরি ব্যাপার নয়, সমাজ-সংসারে মুক্তাগাছা নয় কোনো আরাধ্য ব্যাপার যার জন্যে না খেয়ে ফুলিয়ে গাল সারাটা সকাল বসে থাকবে অভিমানী মেয়ে, চুলের কাঁকই ফেলে চোখের উদ্গত জল চাপতে জানালায় ছুটে যাবে সদ্যযুবতী কোনো বধূ— মুক্তাগাছা কারও পীরিতি পরাননিধি নয়। তবু মুক্তাগাছা যেতে হয়, তবু যাই, তবু আজ এসেছি মুক্তাগাছায়। এইখানে […]

ফুলতলি থেকে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি ঘিরে অনেক ব্যথা-বেদনা – বেলাল চৌধুরী

গোটা দেশ ছেলে ঠাকুরবাড়ির সবচেয়ে সুদর্শন ও গুণী যুবা পুরুষটির জন্যে যোগ্য পাত্রীর খোঁজে যখন হন্যে হচ্ছিলেন অভিভাবকেরা—তখন হঠাৎই চোখ পড়ল নিজেদেরই সেরেস্তার একজনের নবমবর্ষীয়া কন্যার ওপর, জন্ম যার পূর্ব বাংলার অজপাড়াগাঁ দক্ষিণ ডিহির ফুলতলি গ্রামের ফুলি, পোশাকি নাম ভবতারিণীর আড়ালে আমরা কি তাকে চিনি? চিনব কী করে? ঠাকুরবাড়ির রেওয়াজ অনুযায়ী ততক্ষণে তার নতুন নামকরণ […]

মহানাম – বিলোরা চৌধুরী

বেলোয়ারী ঝাড়ে এ কোন অমৃতকুম্ভ! টুং-টাং বাজে অহংপক্ষে অবতল লৌকিক আজ অলৌকিকে মুক্ত নেভাও আমাকে, আমাকে নেভাও, নেভাও। রক্তে এখনো চাবেক ফিরছে নেশা-নিম বাগানে দুলছে অরফিউসের বেদনা অগ্নিগোলকে এ কোন স্ফুলিঙ্গ! দুলছে স্বর্গ, আমি তো ভুলতে চাই না। মর্ত্যে নেমেছে হিমবাহে ঢাকা পরিধি পারদ এখনো তাপিত লগ্নে বোনা নয় আত্মম্ভর আকাশ বুনছে বরাভয় শমিত রক্তে […]

জাদুঘরে পাঠানোর মতো একটি শব্দ কিংবা তেলাপোকা – ময়ূখ চৌধুরী

ধরা যাক, কৃতজ্ঞতার মতো একটি শব্দ—বিতিকিচ্ছিরি বানান; যেন শব্দ নয়, আদিম তেলাপোকা। ক-এর নিচে ঝুলে থাকা তেলাপোকার ঠ্যাং দেখে হয়তো গা রি রি করেছিল। আঙুলের ডগায় ফোলানো বেলুনের ফেটে যাওয়া কী,—তেলাপোকা আমলে আনেনি। সে জানত না—অতীত থেকে দ্রুতবেগে পালিয়ে যাওয়া স্যান্ডেলের তলা থেকেও এ রকম শব্দ হতে পারে। সাদা থুতুর সঙ্গে লেপ্টে থাকে বীভৎস বর্ণের […]

সিউল – কাইয়ুম চৌধুরী

১. নির্জনতা নেই এখানে পর্যটকের জটলা, সুউচ্চ পাথুরে পাহাড়ের মাঝখানে সমতল। পণ্যপসরা সাজানো দোকানপাট, রেস্তোরাঁ— সুগন্ধি খাবার কলকোলাহল। গিরিখাতে নদী বয়ে যায় শীর্ণকায়, ছলছল কলকল। হঠাৎ জাগেন পাহাড়ের ঢালে সৌম্য শান্ত গৌতম— নিমীলিত নেত্রে সমাসীন। বাম হাতের তর্জনী ও কনিষ্ঠা ঈষৎ উত্তোলিত। শান্তি কামনায় উচ্চারিত ওষ্ঠ। প্রজ্জ্বলিত মোমবাতি দানবাক্সে ইচ্ছাপূরণের রজত মুদ্রা। জোড়হস্তে দণ্ডায়মান পুণ্যার্থী। […]

পাতা 1/712345...শেষ »