ইমদাদুল হক মিলন

ইমদাদুল হক মিলন (জন্ম সেপ্টেম্বর ৮, ১৯৫৫) বাংলাদেশের একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।

আমার কবি রফিক আজাদ

রফিক ভাই গম্ভীর গলায় বললেন, তোমার লেখাটা পড়ছি৷ এই লেখা তুমি জোর কইরা ছোট করার চেষ্টা করবা না৷ লেখা যেইভাবে আগায়, আগাইবো৷ যতবড় হয় হইব৷ আমি এই লেখা ছাপবো৷ একজন কবিকে নিয়ে আমি উপন্যাস লিখেছিলাম৷ কবির নাম রফিক আজাদ৷ উপন্যাসের নাম ‘দুঃখ কষ্ট’৷ রফিক আজাদের কবিতা থেকেই রাখা হয়েছিল নামটি৷ ‘পাখি উড়ে গেলে পাখির পলক […]

আমার যুদ্ধ

সইয়ের বাড়িতে বসে খবরটা মা পেয়ে গেল। আমাদের বাড়ি লুট হয়ে গেছে। গ্রামে মিলিটারি এসেছে, জ্বালাও পোড়াও করেছে, মানুষ মেরেছে। কিন্তু আমাদের বাড়িটা মিলিটারিরা লুটপাট করেনি। কে করেছে? লুট হয়ে যাওয়া বাড়িতে ফিরেই আমি তা জেনে গিয়েছিলাম। তখনও দুপুর হয়নি। লুট হয়ে যাওয়া বাড়ির আঙিনায় বসে শিশুর মতো কাঁদছি। অদূরে লুটের হাত থেকে বেঁচে থাকা […]

আমি, আমার মা ও কবরের অন্ধকার

সইয়ের বাড়িতে বসে খবরটা মা পেয়ে গেলেন। আমাদের বাড়ি লুট হয়ে গেছে। গ্রামে মিলিটারি এসেছে, জ্বালাও পোড়াও করেছে, মানুষ মেরেছে। কিন্তু আমাদের বাড়িটা মিলিটারিরা লুটপাট করেনি। কে করেছে? লুট হয়ে যাওয়া বাড়িতে ফিরেই আমি তা জেনে গিয়েছিলাম। তখনও দুপুর হয়নি। লুট হয়ে যাওয়া বাড়ির আঙিনায় বসে শিশুর মতো কাঁদছি। অদূরে লুটের হাত থেকে বেঁচে থাকা […]

আসলে কী ঘটেছিল

এই বাড়ির কাজের লোকটির নাম বারেক। তিরিশ একত্রিশ বছর বয়স। এখনও বিয়ে করেনি। রোগা পটকা কেংলা ধরনের। চেহারায় মিষ্টতা আছে, চোখ দুটো সুন্দর। এক বালতি পানি এনে দরজার বাইরে একপাশে রাখল সে। সন্ধ্যা প্রায় হয়ে আসছে। তবু বালতি ভরা টলটলে পরিষ্কার পানিটা দেখতে পেলাম। বারেককে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে এভাবে বালতি ভরা পানি রাখলে কেন? বারেক […]

উপন্যাসের শেষ পর্বটি লিখছি

বাংলাদেশের হাতেগোনা কয়েকজন খ্যাতিমান কথা-সাহিত্যিকের মধ্যে অন্যতম ইমদাদুল হক মিলন। আসন্ন ঈদ ও বইমেলায় এই সাহিত্যিকের একাধিক উপন্যাস ও গল্প প্রকাশিত হবে। সাম্প্রতিক ব্যস্ততা নিয়ে ইমদাদুল হক মিলন মুখোমুখি হয়েছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাহিদ হোসেন। আপনার ধারাবাহিক উপন্যাস ‘নূরজাহান’ কোন পর্যায়ে আছে? ‘নূরজাহান’ উপন্যাসটি নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ‘সাপ্তাহিক ২০০০’ পত্রিকায়। আগামী জানুয়ারিতে এটি শেষ […]

কে আসে

কে আপনি, কে? এই যে, এই যে আপনি, কালো আলখাল্লা পরে আমার বুক বরাবর এসে দাঁড়িয়েছেন। কে আপনি? আপনার মুখটা আমি দেখতে পাচ্ছি না। আগের দিনকার শাহজাদিদের মতো কালো নেকাবে মুখ ঢেকে রেখেছেন, কিন্তু আকৃতিতে আপনি বিশাল। কোনো মেয়ে এত দীর্ঘাঙ্গী হয় না। আপনি কে? কে আপনি? আরে, চট করে আবার কোথায় চলে গেলেন? এই […]

গাহে অচিন পাখি

গাহে অচিন পাখি ইমদাদুল হক মিলন হাওয়ায় কী একটা ভাজা-পোড়ার গন্ধ ওঠে। ভারি মনোহর। সেই গন্ধে মাছচালার ধুলোবালি থেকে মুখ তোলে বাজারের নেড়িকুত্তাটা। তারপর প্রথমেই তার প্রভু পবন ঠাকুরকে খোঁজে। নেই। গন্ধ আর প্রভুর টানে কুত্তাটা তারপর ওঠে দাঁড়ায়। দাঁড়িয়ে পুরনোকালের রোঁয়া ওঠা মদ্দা শরীরখান টানা দেয়। তখন দেখে দূরে খাদ্যি খাওয়ার দোকানটার সামনে প্রভু […]

ছেলেবেলার গল্প

দশ এগারো বছর বয়সে বয়রা হয়ে গেলেন হাফেজমামা। কানে একদমই শোনেন না। তবু তাঁর দুরন্তপনায় বাড়ির লোক অতিষ্ঠ। মেজোনানা জাহাজের সারেঙ। বাড়িতে পুরুষ বলতে কেউ নেই। হাফেজমামাকে শাসন করার কেউ নেই। তিনি তাঁর মতো দুরন্তপনা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেজোনানা বাড়ি এলেন। ছেলের লক্ষণ দেখে বিরক্ত। এসময় ফকির ফাকরা টাইপের কেউ ভবিষ্যদ্বাণী করল, এই ছেলের মুসলমানি করানো […]

জীবনের প্রতিটা বাঁকে মানুষ প্রেমে পড়তে পারে

ইমদাদুল হক মিলন। জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক। প্রেমই তার উপন্যাসের মূল উপজীব্য। লিখেছেন ভিন্নধারার রচনাও। দীর্ঘদিন প্রেমের উপন্যাস লেখা এই লেখক এবার বিশ্লেষণ করেছেন প্রেম ভালোবাসার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জব্বার হোসেন ও রোকন উদ্দিন সাপ্তাহিক : আপনি বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয়তম লেখকদের একজন। যাবজ্জীবন, পরাধীনতা, মহাযুদ্ধের মতো সিরিয়াস উপন্যাস লিখেছেন। কিন্তু প্রেমের উপন্যাসের লেখক হিসেবেই পাঠকের কাছে […]

জেলাটির নাম করন করা হউক মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর জেলা

ইমদাদুল হক মিলন৷ বাংলা সাহিত্যে জীবন কিংবদনী একটি নাম৷ বাংলার আকাশে উজ্জল নক্ষত্র৷ জন্ম ৮ই সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ সালে বিক্রমপুরের মেদিনীমন্ডল নামক গ্রামে৷ প্রথম রচনা গল্প (ছোটদের) ”বন্ধু” ১৯৭৩ সালে৷ তারপরে একে একে অসংখ্য৷ তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টির মধ্যে যাবজ্জীবন, পরাধীনতা, ভূমিপুত্র, নদী উপাখ্যান, র্রপনগর, কালো ঘোড়া, রাজাকারতন্ত্র, কালাকাল, ও রাধা ও কৃষ্ণ, দুঃখ কষ্ট, উপনায়ক, নুরজাহান […]

দুর্গাপূজার দিনগুলো

ঈদের ব্যস্ততার কারণে বুঝতেই পারিনি আশ্বিন মাস এসে গেছে। এখন শরৎকাল। কয়েক দিন পরই দুর্গাপূজা। খবরটা পড়ে মন অন্য রকম হয়ে গেল। শরৎকালের আকাশটা খুব দেখতে ইচ্ছে হলো। সকালবেলায় শরতের আকাশ আজ কেমন হয়েছে! চারতলার ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। চারদিকের উঁচু উঁচু বিল্ডিংয়ের ফাঁকফোকর দিয়ে একটুখানি চোখে পড়ে আকাশ। কী স্বচ্ছ, কী নীল পরিচ্ছন্ন আকাশ! কাশফুলের […]

নাটক আর লেখালেখি নিয়েই থাকতে চাই

আজ আরটিভিতে আপনার রচনায় এবং পরিচালনায় প্রাচারিত হবে ধারাবাহিক ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ এ সম্পর্কে কিছু বলুন? অনেক বছর আগে ‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ নামে একটি উপন্যাস লিখেছিলাম। পরে সেটি উরিয়া ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। সেই উপন্যাসটাকেই নাট্যরূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। হুবহু না তবে উপন্যাসের আদলে অনেক চরিত্র ইন আউট করে নির্মাণ করেছি নাটকটা। ইতিমধ্যে বেশ […]

ফরীদি উপাখ্যান

হুমায়ূন ফরীদির সঙ্গে পরিচয় হলো বাহাত্তর সালে। স্বাধীনতার পরের বছর। বছরের বোধহয় শেষ দিকে। আমি তখনও লেখক হইনি, ফরীদি তখনও অভিনেতা হয়নি। লেখা উচিত ‘হননি’। ফরীদিকে আপনি করে লিখতে কি রকম যেন লাগছে। সে আমার এত প্রিয় বন্ধু, ফরীদির মতো বন্ধুকে কেমন করে আপনি বলি! আমি তখন থাকি গেন্ডারিয়াতে। গেন্ডারিয়ার রজনী চৌধুরী রোডের একটা বাসায় […]

ফাতেমা আক্তার ও আলী আহম্মদদের কথা একটু ভাবুন

এসএসসির রেজাল্টের পর খবরের কাগজগুলোতে শহরের বিখ্যাত স্কুলগুলোর আর তাদের ছাত্রছাত্রীদের কৃতিত্বের কথা যেমন বিস্তারিত লেখা হয় তেমন করেই লেখা হয় দেশের গ্রামগঞ্জে অতিকষ্টে পড়াশুনা করে ভালো রেজাল্ট করা ছেলেমেয়েদের কথা। তেমন দুজন ছেলেমেয়ের কথা পড়লাম ‘ভোরের কাগজ’ এর ১ জুন ২০০৯ সংখ্যায়। মফস্বল পাতায় ছাপা হয়েছে রংপুরের ফাতেমা আক্তারের কথা আর মাদারীপুরের আলী আহম্মদের […]

বন্ধুবান্ধব

আফজালকে প্রথম কবে দেখি! দিনটির কথা পরিষ্কার মনে আছে। তিয়াত্তর সালের শেষ দিককার কথা। অবজারভার ভবনের দোতলায় ‘দৈনিক পূর্বদেশ’ পত্রিকার অফিস। পূর্বদেশের ছোটদের পাতার নাম ‘চাঁদের হাট’। সেই পাতা ঘিরে একটি সাহিত্যের অনুষ্ঠান। হাতে লেখা পোস্টার ফেস্টুনে ছেয়ে আছে চারদিক। আমার বয়সী বহু ছেলেমেয়ে ভিড় করে আছে দোতলার হলরুমে। হলরুমটা পুবে পশ্চিমে লম্বা। পশ্চিম দিককার […]

ব্লেড সস্তা বলে দাড়ি নেই

ভালোবাসা কারে কয়? –যদি আবার প্রেমে পড়া যেত, তাহলে বলা যেত ভালোবাসা কারে কয়। সময় সময় ভালোবাসার অর্থ বদলায়। তবে জ্যামিতিকভাবে ভালোবাসার সংজ্ঞা হতে পারে−একটি ছেলে ও একটি মেয়ের হাতের রেখা যদি পরস্পর একদিকে যায়, তবে তারা পরস্পর যে বিন্দুতে ছেদ করে, তাকেই ভালোবাসা বলে। আপনাকে যদি ভ্যালেন্টাইনস ডেতে কোনো মেয়ে প্রেম নিবেদন করে, আপনি […]

মানুষ কেমন করে বদলায়

গল্পটা বলেছিল হাজামবাড়ির মজিদ। গল্পকে সে বলত কিচ্ছা। আমার কিশোরবেলার কথা। গ্রামে নানির কাছে একা একা থাকি। সন্ধ্যাবেলা মজিদ মাঝে মাঝে আমাকে কিচ্ছা শোনাতে আসত। রাক্ষস খোক্ষস, জিন পরী, দেও দানব, ভুত পেতনি আর রাজরাজার কিচ্ছা। এই কিচ্ছাটা ছিল ডাকাতের। এক দুর্ধর্ষ ডাকাত রামদা হাতে বনোপথে দাঁড়িয়ে থাকে। সেই পথে টাকা-পয়সা সোনাদানা নিয়ে যে যায় […]

যেভাবে বেড়ে উঠি

জীবনের শুরুতে কারা আপনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিলেন ? জীবনের শুরুর প্রভাবটা ফেলেছিলেন আমার বাবা৷ বাবাকে আমি খুবই ভালোবাসতাম৷ সবসময় মনে হতো যে আমার বাবার মতো এরকম মানুষ বোধহয় আমার চারপাশে আর কেউ নেই৷ আমি বিক্রমপুর, গ্রামে নানীর কাছে থাকতাম৷ বাবা আমাকে খুবই ভালোবাসতেন৷ আমাক দেখতে যেতেন৷ বাবা মারা গেলেন চুয়ালি শ বছর বয়সে একাত্তর […]

সকালবেলার আলো

রবিকে দেখে আমার খুব ভালো লাগল। উঠোনের কোণে মাঝারি সাইজের মাদুর বিছিয়েছে। মাদুরের ওপর রেখেছে একটা জলচৌকি। জলচৌকিতে বই রেখে দুলে দুলে পড়ছে। মাদুরে বেশ গুছিয়ে রাখা তার অন্যান্য বই-খাতা। সকালবেলার রোদ পড়েছে রবির পিঠের দিকে। নভেম্বর মাস। গ্রাম এলাকায় বেশ শীত। রবিদের বাড়ির পশ্চিম দিকে বিশাল পুকুর। পুকুরের ওপার থেকে শুরু হয়েছে শস্যের মাঠ। […]