দেবলোকের যৌনজীবন (১৯৮৩)

০১. দেবলোকের যৌনজীবন

০১. দেবলোকের যৌনজীবন

দেবলোকের যৌনজীবন গ্রীকপুরাণ থেকে দেবলোকের যৌনজীবনের যে চিত্র পাওয়া যায়, তা দিয়েই আমি আমার বই শুরু করছি। হিন্দুদের মত গ্রীকরাও তাদের দেবদেবীদের মানুষের প্রতিরূপেই কল্পনা করত। সেজন্য মনুষ্য সমাজে নারীপুরুষের আচরণে যে সব দোষ-গুণ থাকে গ্ৰীক দেবদেবীদের মধ্যেও আমরা তাই দেখি। মনুষ্যসমাজে পুরুষ অপরের স্ত্রীর প্রতি লালসা প্রকাশ করে বা অপরের স্ত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ […]

০২. অপ্সরাদের যৌন আবেদন

অপ্সরাদের যৌন আবেদন হিন্দুর তেত্রিশ কোটি দেবতা । কিন্তু স্বর্গের বারযোষিতদের সংখ্যা ষাট কোটি । তেত্ৰিশ কোটি দেবতা, ষাট কোটি বারযোষিতদের নিয়ে কি করতেন, তা আমাদের জানা নেই । স্বর্গের বারযোষিতদের বলা হত অপ্সরাা । অপ্সরাারা অপূর্ব লাবন্যময়ী হত । নৃত্যকলায় তারা হত পটীয়সী । তারা সবসময়েই তাদের নৃত্যদ্বারা ইন্দ্রের দেবসভা মাতিয়ে রাখত। ইন্দ্র অত্যন্ত […]

০৩. দেবদেবীদের ব্যভিচার

দেবদেবীদের ব্যভিচার আগেই বলা হয়েছে যে দেবসমাজের পরিমণ্ডলটা মানুষ তার নিজ সমাজের প্রতিচ্ছবিতেই কল্পনা করেছিল । সেজন্য মনুষ্যসমাজে যেমন অজাচার ও ব্যভিচারের প্রচলন ছিল, দেবসমাজেও তাই ছিল । পৌরাণিক যুগে ব্ৰহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর, এই তিন দেবতা সব দেবতার উচ্চে স্থান পেয়েছিল। বেদে কিংবা ব্ৰাহ্মণে কিন্তু ব্ৰহ্মার নাম পাওয়া যায় না। পৌরাণিক যুগে ব্ৰহ্মাই ছিলেন […]

০৪. দেবদেবীর অজাচার

দেবদেবীর অজাচার আগের অধ্যায়ে আমরা দেবালোকের অজাচার ও ব্যভিচার সম্বন্ধে আলোচনা করেছি । দেবতাদের বিশেষ যৌনাচারকে আমরা অজাচার ও ব্যভিচার বলে বর্ণনা করেছি। এই কারণে যে, যে সমাজের প্রতিরূপে দেবীসমাজ কল্পিত হয়েছিল, সে সমাজে আজ এরূপ আচরণ অজাচার ও ব্যভিচার বলে পরিগণিত হয়। কিন্তু নৃতত্ত্ববিদগণ বলেন যে এসব মানুষের মনগড়া। এ সম্বন্ধে Havelock Ellis তাঁর […]

০৫. শিব সংযমী দেবতা

শিব সংযমী দেবতা ইন্দ্র থেকে ব্ৰহ্মা-বিষ্ণু পর্যন্ত সকলেই ব্যভিচারী দেবতা । একমাত্র শিবই ব্যভিচারী বা কামুক দেবতা নন । বরং তার কৃতিত্ব হচ্ছে তিনি কামদেবকে ভস্ম করেছিলেন । শিব মহাযোগী। কিন্তু মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে শিব ঘোর সংসারী । বাঙলার লোকের কাছে শিব অত্যন্ত জনপ্ৰিয় দেবতা । বাঙলার লোক লিঙ্গরূপেই শিবকে পূজা করে থাকে। এই লিঙ্গরূপে […]

০৬. রাজমহীষীদের অশ্বসঙ্গম

রাজমহীষীদের অশ্বসঙ্গম সৃজনশক্তি উৎপাদনের সঙ্গে জীব-মেধ যজ্ঞের যে একটা নিকট ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে, তা আমরা বুঝতে পারি অশ্বমেধ যজ্ঞের অনুষ্ঠান সমূহ থেকে। অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্বন্ধে অনেকেরই কোন সঠিক ধারণা নেই, যদিও পঞ্চাশ বছর পূর্বে আমি ‘ইণ্ডিয়ান কালচার’ পত্রিকায় এ সম্বন্ধে লিখেছিলাম । সাধারণের ধারণা যে অশ্বমেধ মাত্ৰ সাৰ্বভৌম নৃপতিগণ দ্বারাই অনুষ্ঠিত হত, তা নয় […]

০৭. নারীসঙ্গম ও তন্ত্রধর্ম

নারীসঙ্গম ও তন্ত্রধর্ম হিন্দু ধর্মের এক বিশেষ “ইডিয়াম” হচ্ছে তান্ত্রিক সাধনা, তান্ত্রিক সাধকদের মধ্যে যাঁরা বামাচারী তাদের নারী সঙ্গমই হচ্ছে সাধনার প্রধান অঙ্গ । কিভাবে ধর্মের সঙ্গে নারী সঙ্গম জড়িত হয়ে পড়েছিল তার বিবরণ নীচে দিচ্ছি। সকলেরই জানা আছে যে সভ্যতার সূচনা হয়েছিল ভূমিকৰ্ষণ নিয়ে। ভূমিকৰ্ষণই মানুষকে বাধ্য করেছিল স্থায়ী বসবাস স্থাপনে। এই স্থায়ী বসবাস […]

০৮. বিদ্যাধর ও বিদ্যাধরীদের আচরণ

বিদ্যাধর ও বিদ্যাধরীদের আচরণ এদেশের লোক অতি প্ৰাচীন কাল হতেই বিদ্যাধরীতে বিশ্বাস করে এসেছে। বিদ্যাধরী কারা ? অভিধান খুলে দেখি, বিদ্যাধরীরা দেবযোনি বিশেষ। তবে অন্য সূত্র থেকে জানতে পারা যায়, এরা পৃথিবী ও আকাশের মধ্যস্থলে বাস করে। সাধারণতঃ এরা মঙ্গলকামী অনুচর হলেও এদের নিজেদের রাজা ছিল । এরা মনুষ্য জাতির সঙ্গে বিবাহ সম্বন্ধ স্থাপন করত […]

০৯. মহাদেবের অনুচর

মহাদেবের অনুচর মহাদেবের আরও অনুচর ছিল । যথা কুবের, নন্দী, ভূঙ্গী, মহাকাল, গণদেবতাগণ, বেতাল, যোগিনী, ভৈরবী, যক্ষ, রাক্ষস ইত্যাদি। যক্ষ ও রাক্ষসদের জন্ম সম্বন্ধে রামায়ণে আছে –ব্ৰহ্মা প্ৰথম জল সৃষ্টি করেন । তারপর সেই জল রক্ষার জন্য প্ৰাণী সৃষ্টি করেন। প্ৰাণীদের মধ্যে যারা বলে যক্ষামঃ অর্থাৎ আমরা পূজা করব, তারাই যক্ষ হলেন । আর যারা […]

১০. দেবদেবীর কুলজী

দেবদেবীর কুলজী বৈদিক দেবতাগণের মধ্যে ইন্দ্ৰই শ্রেষ্ঠ । তঁর উদ্দেশ্যে ঋগ্বেদে যত সূক্ত আছে। অন্য কোন দেবতার উদ্দেশ্যে তত নেই। পুরুষসূক্তে ( ১০।৯০৷১৩) ইন্দ্র ও অগ্নি পুরুষের মুখ থেকে উৎপন্ন বলা হয়েছে। অন্যত্র অদিতি তাঁর মা বলা হয়েছে। তিনি মাতৃগৰ্ভ থেকে মাতার পার্শ্বভেদ করে জন্মাবার চেষ্টা করেন । তিনি জন্মাবধিই যোদ্ধা এবং অসুরবধের জন্য সৃষ্ট […]

১১. মুনি-ঋষিদের যৌনজীবন

মুনি-ঋষিদের যৌনজীবন “পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা৷” এটাই ছিল প্ৰাচীন ভারতের যৌন জীবনের সনাতন ধর্ম। নরক থেকে পূৰ্বপুরুষদের উদ্ধার করবার জন্যই পুত্র উৎপাদন করা হত। সেজন্য ধর্মশাস্ত্রকারগণ পুত্র উৎপাদনের প্ৰয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব অৰ্পণ করেছিলেন । এটা যে সাধারণ লোকের জন্যই ব্যবস্থিত হয়েছিল, তা নয়। মুনি-ঋষিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য ছিল। অগস্ত্য ও জরৎকারু মুনির কাহিনী এ সম্মন্ধে বিশেষ […]

১২. মৈথুনের মল্লবীর

মৈথুনের মল্লবীর অভিধানে ‘দক্ষ’ শব্দের অর্থ দেওয়া আছে ‘নিপুণ, পটু ৷’ সেই অর্থে ‘মৈথুনধর্মে দক্ষ’ মানে মৈথুন কর্মে পটু। বিষ্ণুপুরাণের পঞ্চদশ অধ্যায়ে এই অভীধা মাত্র একজনকেই দেওয়া হয়েছে। তিনি হচ্ছেন কণ্ডু মুনি । আমরা একবার উল্লেখ করেছি যে একবার অপ্সরা প্রম্লোচ্চাকে নিযুক্ত করা হয়েছিল কণ্ডু মুনির তপস্যা ভঙ্গ করবার জন্য। এর বিশদ বিবরণ বিষ্ণুপুরাণের পঞ্চদশ […]

১৩. হিন্দুদের কামশাস্ত্ৰ

হিন্দুদের কামশাস্ত্ৰ যৌনমিলন নিয়ে অনুশীলন ভারতে অতি প্ৰাচীনকাল থেকে অনুসৃত হয়েছে। এরূপ অনুশীলনমূলক গ্রন্থগুলিকে কামশাস্ত্র বলা হত । রতিসম্ভোগের প্রয়োজনীয়তার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ঋগ্বেদের প্রথম মণ্ডলের ১৭৯ সুক্তে ! তবে কামশাস্ত্ৰ সম্বন্ধে অনুশীলনেরও উল্লেখ পাওয়া যায় বৃহদারণ্যক উপনিষদে (৬।২৷১২-১৩ ; ৬।৪।২-২৮ )। সেখানে খোলাখুলিভাবে বলা হয়েছে যে রমণের সময় যদি নারীর কামোদ্রেক করাতে চাও, […]

১৪. হিন্দুমন্দিরে মিথুনমূর্তি

হিন্দুমন্দিরে মিথুনমূর্তি ভারতের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরগাত্রে কামকলার অনেক নিদর্শন আছে । বহু স্থানে ( যেমন ভুবনেশ্বরের রাজারাণী মন্দিরে) এমন অনেক দুঃসাহসিক ধরণের রমণমূর্তি আছে, যেগুলো দেখলে মনে হবে যে প্ৰাচীনকালের হিন্দুরা মৈথুনক্রিয়ার কৌশলে বিশেষ রকমের acrobats ছিলেন । মৈথুনক্রিয়ার এসকল পদ্ধতি বাৎসায়নের ‘কামসূত্র’-এও বর্ণিত হয়েছে । সুতরাং এগুলো কামকলার যে অসম্ভব বা অবাস্তব পদ্ধতি তা […]

১৫. বেদ-পুরাণ এর ইতিবৃত্ত

বেদ-পুরাণ এর ইতিবৃত্ত এই পুস্তকের প্রবন্ধসমূহ বেদ-পুরাণের ভিত্তিতে রচিত। সেজন্য পাঠকদের বেদ পুরাণ সম্বন্ধে একটা ধারণা থাকা উচিৎ। সেই কারণে বেদ-পুরাণ সম্বন্ধে এখানে কিছু বলছি। নিষ্ঠাবান হিন্দুসমাজের কাছে বেদ-পুরাণ অপেক্ষা পবিত্র জিনিষ আর কিছু নেই। পুরাণগুলি পরে লেখা হয়েছিল, বেদই সকলের আগে রচিত। কিন্তু হিন্দুদের বিশ্বাস বেদ রচিত গ্ৰন্থ নয়, ঋষিগণ কর্তৃক দৃষ্ট বা শ্রুত […]

১৬. দেবলোকের পরিচিতি

দেবলোকের পরিচিতি গোড়াতেই দেবলোকের একটা পরিচিতি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি। সংক্ষেপে, দেবতারা যেখানে বাস করতেন, সেটাই দেবলোক । পরবর্তীকালে আমরা দেবলোককে ‘স্বৰ্গ’ আখ্যা দিয়েছি । কিন্তু হিন্দুর সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থে ঋগ্বেদে দেবতাদের আবাসস্থল হিসাবে ‘স্বৰ্গ’-এর কোন উল্লেখ নেই। বস্তুতঃ যুগে যুগে দেবলোকের অবস্থান ও তার বাসিন্দাদের নামধাম ও চরিত্র পালটে গেছে। ঋগ্বেদের যুগে […]

১৭. পৌরানিক উপাখ্যান

পৌরানিক উপাখ্যান পুরাণসমূহের পঞ্চলক্ষ্মণের মধ্যে এক লক্ষণ হচ্ছে সর্গ । সৰ্গ মানে সৃষ্টি । সব পুরাণেই সৃষ্টি প্রকরণ বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনা অনুযায়ী ব্ৰহ্মা প্ৰথমে সনৎকুমার, সনন্দ, সনক, সনাতন ও বিভু, এই পাঁচ ঋষিগণকে সৃষ্টি করেন। কিন্তু তাঁরা ঊর্ধ্বরেতা থাকায় প্ৰজাসৃষ্টি হল না। তখন ব্ৰহ্মা নিজেকে দুইভাগে বিভক্ত করেন। তাঁর এক অংশ পুরুষ ও অপর […]