বৈষ্ণব পাঠক

কবি মধুসূদন ‘ব্ৰজাঙ্গনা কাব্য’ রচনা করেন সুহৃদ ভূদেব-এর বিশেষ অনুরোধে। বৈষ্ণবপাঠকগণ মহাজন পদাবলীর মতো মধুসূদন রচিত প্রাণমনোহারিনী কবিতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। এক পরম বৈষ্ণব এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি সুদূর নবদ্বীপ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন শুধুমাত্র কবি মধুসূদনকে দেখার জন্য। তিনি মধুসূদনের পরিচয় জানতেন না। কলকাতা শহরে এসে সেই বৈষ্ণব অনেক খুঁজে শেষপর্যন্ত মধুসূদনের বাড়িতে এসে পৌঁছলেন। দেখলেন, ঘরের চেয়ারে বসে একজন সাহেববেশী কৃষ্ণকায় ব্যক্তি কী সব লিখছেন!! বাড়িটাও সাহেবদের বাড়ির মতো। ঠিক বাড়িতেই এসেছি তো! নাকি ভুল বাড়িতে! — ভাবতে ভাবতে বৈষ্ণব ব্যক্তিটি যেই না বাইরে বেরোতে যাবেন, আমনি সাহেববেশী মধুসূদন তাঁকে কৌতুহলী হয়ে জিগ্যেস করলেন, ‘মশাই, আপনি কাকে খুঁজছেন ?’

বৈষ্ণব জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আচ্ছা এ বাড়িতে কি মধুসূদন দত্ত বলে কেউ থাকেন ?’

মধুসূদন জিগ্যেস করলেন, ‘কেন ? আপনার তাঁকে কী প্রয়োজন ?’

বৈষ্ণব বললেন, ‘আমি তার লেখা ‘ব্ৰজাঙ্গনা কাব্য’ পড়ে মুগ্ধ হয়েছি। সেই পরম বৈষ্ণব মহাপুণ্যবান কবি মধুসূদনকে শুধুমাত্র একবার দেখব বলে নবদ্বীপ থেকে ছুটে এসেছি। যদি একবার ডেকে দেন। তাঁকে দেখে দু’চোখ সার্থক করি।’

বৈষ্ণকুবের কথা শুনে হেসে মধুসূদন বিনয়ের সঙ্গে নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, ‘আমিই মধুসূদন দত্ত।’

মধুসূদনের কথা শুনে একেবারে স্তম্ভিত বৈষ্ণব! কিছুক্ষণ অবাক হয়ে স্থির থেকে কবির মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। তারপর আবেগভরে কবিকে জড়িয়ে ধরলেন এবং আশীৰ্ব্বাদ করলেন ।

এই পরম প্ৰাপ্তি মধুসূদন কোনোদিন ভুলতে পারেন নি।

Print Friendly, PDF & Email
%d bloggers like this: