টাইটেল

কবি-নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায় অনেকের কাছে ডি.এল রায় নামে পরিচিত। একদিন সকালে তিনি নিজের ঘরে বসে একটি নাটক রচনা করছেন। এমন সময় এক স্বল্প পরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন। লোকটিকে দেখে কলম থামিয়ে চশমা হাতে দ্বিজেন্দ্রলাল বললেন, ‘কী ব্যাপার বলুন?’

লোকটি সরকারি খেতাব পেয়ে আনন্দে গদগদ হয়ে দ্বিজেন্দ্রলালকে জানাতে এসেছেন। বঁধভাঙা উচ্ছাসে একটু বেশি আত্মীয়তা দেখিয়ে লোকটি বললেন, ‘বলি, তুমি কেমন ধারার মানুষ হে মিস্টার দ্বিজু?’

দ্বিজেন্দ্রলাল এ হেন সম্বোধন শুনে তো অবাক! ভ্রূ কুঁচকে বললেন, ‘কেন, কী হল?’

লোকটি বললেন, ‘আমি টাইটেল পাওয়ায় বিশ্বশুদ্ধ লোক আমাকে শুভেচ্ছা! জানাচ্ছে, আর তুমি কিনা নিজের লোক হয়েও একবারও খোঁজ নিলে না গা।’ দ্বিজেন্দ্রলাল বুঝলেন পাগলের খপ্পরে পড়েছেন! তখন হাসতে হাসতে বললেন, ‘হা কপাল আমার! তুমি টাইটেল পেয়ে আনন্দে লাফাচ্ছ! আসলে সরকার বাহাদুর যে তোমার সঙ্গে ঠাট্টা করেছেন সেটাও বুঝতে পারনি। না হলে তুমিই বলো, তোমার মত অশিক্ষিত লোকের কী করে টাইটেল মিলবে? কী হে চুপ কেন? বলো কিছু-’ দ্বিজেন্দ্রলালের কথা শুনে আসি ভাই একটু তাড়া আছে বলে লোকটি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে পালালেন। দ্বিজেন্দ্রলালও নিশ্চিন্তে নাট্যরচনায় মন দিলেন। লেখার সময় কেউ তাঁকে দ্বিজেন্দ্ৰলাল রায়ের রঙ্গ রসিকতা বিরক্ত করলে তিনি খুব অসন্তুষ্ট হতেন!

Print Friendly, PDF & Email
%d bloggers like this: