শৈত্যপ্রবাহের সময় শরীর থেকে দ্রুত তাপ বেরিয়ে যায় বলে কারও কারও মৃত্যু হতে পারে। কারণ, মানুষের শরীরের গড় তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। বেঁচে থাকার জন্য এই তাপমাত্রা ধরে রাখতে হয়। কিন্তু তীব্র শীতের সময় শরীর থেকে তাপ বেরিয়ে যেতে থাকে। তখন শরীর তার সঞ্চিত চর্বি পুড়িয়ে তাপ তৈরি করে তাপমাত্রা ঠিক রাখার চেষ্টা করে। এভাবে শরীর খুব দ্রুত ক্যালরি হারায়। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়ার দুটি উপায়। একদিকে গায়ে গরম কাপড় পরে, লেপ-কম্বল জড়িয়ে এবং ঘরের ভেতর আগুন জ্বালিয়ে বাইরের শীত ঠেকানোর চেষ্টা করা। আমাদের দেশে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলের অনেক গরিব মানুষের পক্ষে এটা সম্ভব হয় না। অন্যদিকে এ সময় প্রচুর খাওয়া দরকার। কারণ, অতিরিক্ত ক্যালরিসম্পন্ন খাবার না খেলে শরীর থেকে যে ক্যালরি দ্রুত বেরিয়ে যায়, তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে ওঠে। শরীর দ্রুত ক্যালরি হারালে হাইপোথারমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রাণ বিপন্ন হতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে নেমে গেলে তাকে হাইপোথারমিয়া বলে। এ অবস্থায় ফুসফুস, হূদযন্ত্র, কিডনিসহ দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শরীরের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে অবস্থা বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। বেশি শীতে চামড়ায় ঘা ও হাত-পা অবশ হয়ে যেতে পারে। এসব মিলে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। শীতকালে তাপমাত্রা খুব দ্রুত কমতে থাকলে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলে। সাধারণভাবে খুব বেশি শীত পড়লে তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলে ধরে নেওয়া হয়। যেমন, আমাদের দেশে ঢাকায় সাধারণত খুব শীত মানে ১০-১২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। কিন্তু যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাপমাত্রা হঠাত্ কমে আট-নয় ডিগ্রি হয়ে যায় এবং এ রকম কয়েক দিন ধরে চলে, তাহলে তাকে আমরা বলব শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের সময় তাপমাত্রা চার-পাঁচ ডিগ্রিতেও নেমে যায়। এ সময় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়। গরু, ছাগল প্রভৃতি প্রাণীও শৈত্যপ্রবাহে মারা যেতে পারে। কারণ, এরাও মানুষের মতো উষ্ণ রক্তের প্রাণী, মানে তাদের শরীরেরও একটি নির্দিষ্ট গড় তাপমাত্রা ধরে রাখতে হয়। খুব বেশি শীতে তারাও সমস্যায় পড়ে।

আব্দুল কাইয়ুম
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ০৯, ২০১০