বিমানে ভ্রমণের সময় কিছুক্ষণ পর পর চা-কফি বা অন্যান্য পানীয় দেওয়া হয়। কিন্তু শুধু এগুলো শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করে না। ক্যাফেন অথবা অ্যালকোহল বরং শরীরের পানি বেশি হারে বের করে দেয়। তাই এ ধরনের পানীয় বেশি পান করলে বিশুদ্ধ পানি বেশি খেতে হয়। তা না হলে পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিমানে ভ্রমণের সময় বিশুদ্ধ পানি বেশি পান করা দরকার। বেশি উচ্চতায় শরীর থেকে দ্রুত পানি বেরিয়ে যায়, চা-কফি দিয়ে সেটা পূরণ হয় না। শুধু তৃষ্ণা পেলে পানি পান করার অভ্যাস অনেক সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে, কারণ শরীর থেকে লিটারখানেক পানি বেরিয়ে গেলেও হয়তো তৃষ্ণা পাবে না। তাই কিছু সময় পর পর পানি পান করাই ভালো। পুষ্টিবিদদের মতে, একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের জন্য দিনে অন্তত ছয় থেকে আট গ্লাস (কমবেশি দুই লিটার) পানি পান করা উচিত। যাঁরা বেশি পরিশ্রম করেন, তাঁরা বেশি পানি পান করলে ক্ষতি নেই। পরিশ্রম বা ব্যায়ামের আগে ও পরে ওজন নেওয়া যেতে পারে। প্রতি কেজি ওজন হ্রাসের জন্য প্রায় এক লিটার পানি পান করা উচিত। যদি কোনো কারণে শরীর থেকে দুই লিটারের মতো পানি বেরিয়ে যায় তাহলে গায়ের চামড়া কুঁচকে যাওয়া, পেশি-দুর্বলতা, ক্লান্তি, জ্বালাপোড়া, ঝিমানি ও মাথাব্যথার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেবে। পর্যাপ্ত পানি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ডায়েটিংয়ের সময় বাড়তি মেদ পুড়ে শরীরে যে আবর্জনা সৃষ্টি হয়, পানি তা কিডনির সাহায্যে শরীর থেকে বের করে দেয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্যও বেশি পানি দরকার। দেহের ওজন কমানোর জন্য খাওয়ার আগে ও মধ্যে এক গ্লাস করে পানি খেলে উপকার পাওয়া যায়।

আব্দুল কাইয়ুম
সূত্র: প্রথম আলো, ডিসেম্বর ১৯, ২০০৯

%d bloggers like this: