শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেন। সিনেমার পোস্টার, বিলবোর্ড এবং ব্যানার এঁকে যাঁর শিল্পীজীবনের শুরু, এখন তিনি ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয়, বিতর্কিত ও নামী শিল্পী। দিল্লিতে তাঁর এই সাক্ষাত্কারটি নিয়েছিলেন আনা ইসলাম

আনা ইসলাম: আপনার কাজ সম্পর্কে জানতে চাই।
মকবুল ফিদা হুসেন: আমি শুধু ছবি আঁকি না। আরও দুটো বিষয় আছে—কবিতা ও সিনেমা। কবিতা ছাড়া আমি ছবি আঁকতে পারি না। আর আমি সিনেমা তৈরি করতে পারি। এই তো—এই তিনটি বিষয় ইন্টারমিডিয়া। কাজেই আমি অধ্যয়ন করি, এ সম্পর্কে চিন্তা করি। কবিতা, চিত্রকর্ম এবং চলচ্চিত্র নিয়েই আমি। ৬০-৭০ বছর ধরে ছবি আঁকছি। সেই সঙ্গে কবিতাও লিখছি। আমি এসবের অনুরাগী। আমি স্বপ্ন দেখি না যে আমি একজন কবি, কিন্তু জানেন, ভাবনার জগতে এত বিষয়, আমি ভীষণ আলোড়িত।
৩০ বছর আগে আমি ভারত সরকারের অনুদানে রাজস্থানের ওপর শর্ট ফিল্ম বানিয়েছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে, চলচ্চিত্রে নতুন ভাষা সৃষ্টি করতে আমি পছন্দ করি। এই টেকনোলজির যুগে যে কেউ ভালো ছবি বানাতে পারে। এটা তেমন কঠিন কিছু নয়। কিন্তু দর্শন, যার ভূমিকা পুরো জীবনে, আজকের দিনে এটাই হলো গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল মানুষ শুধু টেকনিকের কারুকাজ দেখায়। হয় চলচ্চিত্রে, নয়তো চিত্রকর্মে। একমাত্র অভিজ্ঞ চোখই তা নির্দেশ করতে পারে।
আনা: এই বয়সে আপনার প্রাণশক্তির রহস্য, প্রেরণা…।
এম এফ হুসেন: খুবই সহজ, আপনি যদি কোনো কাজ ফ্যাশন দিয়ে করেন, আপনি যদি হঠাত্ মৃত্যুর ব্যাপারটি না জানেন, তাহলে চাহিদামতো ছবি এঁকে জনপ্রিয় হওয়া যায়। লোকজনও খুব প্রশংসা করে। কিন্তু একপর্যায়ে তা একঘেয়ে, বোরিং।
প্রতিটি চিত্রকর্মে, প্রতিটি বইতে অবশ্যই অনুসন্ধানের বিষয়টি থাকতে হবে। আমরা সব সময় খুঁজেই যাচ্ছি, যদিও দায়ী করি কোনো মানুষের শরীর বা ঘোড়া বা অন্য কিছু। হাজার হাজার সংকেত, চিহ্ন। প্রতিবারই তাতে নতুন অর্থ উদ্ধারের প্রয়াস থাকে। আর থাকে রেখা আর রং কীভাবে সম্পূরক হিসেবে কাজ করে। এটা একটা জীবনব্যাপী কর্মসাধনা। অনেক তরুণ শিল্পী জানতে চায়, আমি কন্টিনিউ করব, না করব না। শুরুতে যা-ই হোক না কেন, তারা খানিকটা জ্বলে ওঠে। কিন্তু সেটাই যথেষ্ট নয়। জরুরি হলো—তোমার নিজস্ব কোনো স্টাইল আছে, মিউজিশিয়ানদের মতো যা দিয়ে তুমি অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাবে। আপনি জানেন, শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী বা বাদকের চর্চার শুরু সাত বছর বয়সে। তারা কিন্তু একে পেশা হিসেবে নেয় না। পেশা এই অর্থে, এখন যেমন আমি ছবি আঁকি, বিক্রি করি, আমি তার বিনিময়ে অর্থ পাব। এটা কিন্তু উদ্দেশ্য থাকা উচিত নয়। উদ্দেশ্যটা হলো—সাধনা, উত্সর্গ। এটা জীবনব্যাপী কমিটমেন্ট।
আমি আগেও বলেছি, মানুষ আলো, অত্যুত্কৃষ্ট টেকনোলজি পছন্দ করে…একসময় চিত্রকর্ম সংগ্রহ করা শুরু করে। কিন্তু এই সমাদার বা অনুরাগ ভুল সিগন্যাল।
আনা: আপনি ১৯৫০ সালে ছবির প্রদর্শনী করেন পিকাসোর সঙ্গে।
এম এফ হুসেন: না, না, আরও অনেক পরে। ১৯৭১ সালে পিকাসোর সঙ্গে প্রদর্শনী হয়। ১৯৫০-এ আমার প্রথম একক প্রদর্শনী হয়। ১৯৭১ সালে ব্রাজিলের সা-পাওলোতে আমন্ত্রিত হই। এই বিয়েনালে সব নামীদামি জীবিত শিল্পীরা ছিলেন।
আনা: বলা হয়, আপনি সবচেয়ে জনপ্রিয়, একই সঙ্গে খুবই বিতর্কিত—ব্যাপারটি কীভাবে দেখেন?
এম এফ হুসেন: আসলে এই ব্যাপারগুলো ঘটে যায়। এর মানে এই নয় যে আমি এগুলো পরিকল্পনা করে করি।
আনা: কিন্তু আপনি তো উপভোগ করেন?
এম এফ হুসেন: উপভোগ করি এ অর্থে যে আমি মানুষের সঙ্গে আছি। আমি কাজ করে যাচ্ছি। আমি ভাগ্যবান যে মানুষ আমার ছবি বুঝতে পারে। ৫০ বছর আগে খুব কম লোকই আমার চিত্রকর্ম পছন্দ করত। আর এখন আমি এত পরিচিত, আমি যা-ই করি না কেন, দেখতে পছন্দ করে লোকে। এই একটা সুবিধা।
আনা: আপনার অনেক চিত্রকর্মই এখন বিষয়ভিত্তিক, যাকে বলে থিমেটিক।
এম এফ হুসেন: আমার চারপাশে যা ঘটছে, তার একটা অংশ আমি। আর চিত্রকর্ম শুধু ঘটনার বর্ণনা নয়, সাংবাদিকের রিপোর্টিংয়ের মতো। এই ঘটল আর ওই ঘটল—চিত্রকর্ম তা নয়। আমি যা অনুভব করি, যা ঘটছে, যেসব মানুষের সঙ্গে দেখা হচ্ছে—সেগুলো আমাকে অনুপ্রাণিত করে। সুতরাং তাতে এমন কী অশুদ্ধ হলো, যদি আমি মাদার তেরেসার মতো ব্যক্তিত্বকে আঁকি। আমার মনে হয় আপনি দেখেছেন, আমি মাদার তেরেসার প্রতিকৃতি করিনি, আমি কখনোই তাঁর মুখ চিত্রিত করিনি, কিন্তু শাড়ির ভাঁজ, অঙ্গবিন্যাস, মেজাজ—যেখানে একজন মাকে দেখায়। মায়ের অনুভূতি এবং বেদনা, পরিত্যক্ত। অনাথ শিশুদের জন্য। সেটাই আমি দেখিয়েছি, কিন্তু ভিন্নভাবে।
আনা: তার মানে ব্যক্তির একেবারে ভেতরের জায়গাটা আপনাকে নাড়া দেয়?
এম এফ হুসেন: শুধু ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। আপনাকে তার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। সুতরাং আমি মাদার তেরেসা, কলকাতা বা বাংলার শিশুদের আঁকিনি। আমি একজন মাকে তৈরি করেছি, যিনি বিশ্বজনীন।
আনা: টাটা সেন্টারে দর্শকদের সামনে ছবি এঁকে আবার মুছে ফেলেছিলেন?
এম এফ হুসেন: এগুলো সব ভুল। কিছুই মুছিনি। কিছুই…।
আনা: কেন? কেন চিত্রিত করেন এবং চিত্রগুলো নষ্ট করে দেন?
এম এফ হুসেন: এটা আসলে একটা দীর্ঘ দর্শন। আমি ধ্বংস করি না। এটা এক ধরনের নিষ্কাশন, যার গভীরে রয়েছে দর্শন।
আনা: আপনার দর্শন?
এম এফ হুসেন: আমাদের দর্শন। ভারতীয় দর্শন।
আনা: একই সঙ্গে সৃষ্টি এবং ধ্বংস?
এম এফ হুসেন: এটা আসলে ধ্বংস বা বিনাশ নয়, এ হলো নতুন করে সৃজন।
আনা: কিন্তু আপনি ছবি আঁকার পর মুছে ফেললে ক্যানভাস তো শূন্য, কিছুই থাকছে না?
এম এফ হুসেন: না, মুছে ফেলা নয়। আপনি জানেন, যেমন গান্ধীজি, মহান ব্যক্তি এসেছেন এবং…।
আনা: এবং তিনি অদৃশ্য হয়ে গেছেন?
এম এফ হুসেন: হ্যাঁ, অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এর অর্থ এই নয় যে তিনি শেষ হয়ে গেছেন। তিনি এখনো সেখানেই আছেন। আমি বলতে চেয়েছি, যখন একটা ইমেজ তৈরি করি, তা মানুষের মনের মধ্যে থেকে যায়। এবং তা দীর্ঘস্থায়ী, সেটা ছবি হোক বা ব্যক্তি হোক। সবকিছুই তো নশ্বর। এটা ভাঙা নয়, আরেকটি জীবন দেওয়া। যখন ছবি আঁকি, আমি সাদা ব্যবহার করি। চিত্রের ভেতর দিয়ে আরেকটি চিত্র তৈরি করি। আর সাদা, সাদা মানেই সুপার অ্যাডভানটেজ, যা পূর্ণাঙ্গতা দেয়। এটা একটা দর্শন। রাস্তার একজন সাধারণ লোক তা বুঝবে না হয়তো। তার মানে এই নয় যে কেউ তা অনুধাবন করতে পারবে না।
আনা: আপনি ইস্যু খোঁজেন অথবা আপনার ইস্যুর প্রয়োজন হয়?
এম এফ হুসেন: এসব ভুল, এগুলো তারা কল্পনা করে। লোকেরা অনেক কিছু ভাবতে পারে। যে ব্যক্তিটি ৫০ বছরের বিনিময়ে যা অর্জন করেছে, সে বিষয়ের গভীরে না গিয়ে, মাত্র পাঁচ মিনিট দেখে, পাঁচ মিনিটেই সিদ্ধান্ত নিল—ওহ্, না। তার কি এটা করার অধিকার আছে? তার কোনো যোগ্যতা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে ৫০ বছর সময় দেবে। তারপর সে আসুক।
আনা: দেবীদের চিত্রিত করে বিতর্কিত হয়েছেন।
এম এফ হুসেন: আমি তো আঁকিনি। এসব মানুষের ফর্ম। মানুষ যা কিছু বলতে পারে। আমি একটা শিল্পকর্ম চিত্রিত করেছি। আমি দেবী অথবা মাদার তেরেসাকে আঁকিনি।
আনা: শিল্পকর্মের অংশ?
এম এফ হুসেন: হ্যাঁ, একটি শিল্পের অংশ। একেবারেই মাদার তেরেসা নয়। কিন্তু মাদার তেরেসা আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং তারপর আমি আরেকটি ইমেজ সৃষ্টি করেছি। তাঁর মুখ ছাড়া। এ পর্যন্ত আসতে আমার অনেক সময় লেগেছে। মাদারকে বোঝা, প্রদর্শন করা—এর পেছনে আমার অনেক ভাবনা কাজ করেছে। মাদারকে বুঝে কথা বলতে আসতে পারেন। আমি কখনোই আমার ব্যক্তিকে দেবীরূপে বা দেবদেবীকে আঁকিনি, কিছু না…।
আনা: ২০০২ সালে ইন্সটেলেশন এবং পেইন্টিংয়ের প্রদর্শনী করেছিলেন।
এম এফ হুসেন: আসলে আমি অনেক করেছি।
আনা: ইন্সটেলেশন সম্পর্কে আপনার ভাবনা কোন স্রোতে, কারণ চিত্রকর্ম তো ঠিক আছে, কিন্তু ইন্সটেলেশনে কিছু খুঁজে পান?
এম এফ হুসেন: ইন্সটেলেশনে বর্তমানে যে মাত্রা, লেবেল তা এসেছে পশ্চিম থেকে। ভারতে সর্বত্র ইন্সটেলেশন। আপনি যদি মেলাতে বা পানের দোকান, খেলনার দোকান এমনকি মিষ্টির দোকানও দেখেন, যেভাবে মিষ্টিদ্রব্য সাজিয়ে রাখে, এটাকে বলে ইন্সটেলেশন। সুতরাং আমরা স্থাপনার সঙ্গে বাস করছি, পশ্চিমা বিষয়টির সঙ্গে নয়; তারা অমার্জিত, বর্বর ছিল, যখন আমাদের নিজেদের নৈতিক উত্কর্ষময় সমাজ ছিল। এখন তাদের ক্ষমতা ও অর্থ আছে, সুতরাং চেষ্টা করছে কর্তৃত্ব করার।
আনা: আপনার প্রিয় চিত্রশিল্পী রেমব্রান্ট সম্ভবত?
এম এফ হুসেন: হ্যাঁ, র্যামব্রান্ট। খুবই স্পেশাল।
আনা: যখন ছবি আঁকা শুরু করেছিলেন তখনো?
এম এফ হুসেন: একমাত্র র্যামব্রান্ট, আর কোনো ব্যক্তি নয়।
আনা: আপনার তৈরি চলচ্চিত্র সম্পর্কে বলুন।
এম এফ হুসেন: চলচ্চিত্র—চিত্রকর্ম আর কবিতার বিস্তার, ব্যাপ্তি। চিত্রকর্ম আমার কাছে অসম্পূর্ণ। কারণ, এক শ বছর ধরেও যদি আঁকি, এতে শব্দ, মুভমেন্ট অনুপস্থিত। যেমন গজগামিনী, যে নারীকে গত ৫০-৬০ বছর এঁকেছি, এ চলচ্চিত্রে আমি নারীর সেই টোটালিটিটা দিয়েছি; শব্দ, সংগীত এবং কথা দিয়েছি। এভাবেই আমি চলচ্চিত্র তৈরি করি অথবা একটা চেয়ার নিয়ে ফিল্ম বানাতে পারি। আমার নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের দরকার নেই। সাবজেক্ট সেকেন্ডারি। এমনকি চিত্রকর্ম বা কবিতায়, ফিল্মেও…কনসার্ন কিন্তু খুব কম লোকই…সবাই ছবি দেখতে চায়, তারা বিষয়টি পড়তে চায়। তা হয় না। চিত্রকর্ম কোনো বই নয়। এটা একটা অনুভূতি, পছন্দ করেন বা না করেন।
আনা: শিল্পীদের দেবী যেমন মিউজ, আপনার?
এম এফ হুসেন: মানুষ যখন কিছু করে, আমি খেয়াল করি। যদি আমি পছন্দ করি মানুষটিকে, তার ভাষা, দেহভঙ্গি, রং এবং স্টাইল, তাকে আমি আঁকি। এভাবেই আমি নারীকে দেখি। যার জন্য অনেক সময় একই নারীকে এঁকে যাই। যেমন মাদার তেরেসা, মাধুরী দীক্ষিত…এ রকম অনেক, অনেক।
আনা: সম্প্রতি আপনার একটি চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে, ফিরে পেয়েছেন?
এম এফ হুসেন: না, না, এখনো না। অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
আনা: প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জন্মদিনে মাত্র ১০ মিনিটে ছবি এঁকেছিলেন। এই ছবিই পরে ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়…।
এম এফ হুসেন: ২০ বছর আগে এঁকেছিলাম, যখন তাঁকে হত্যা করা হয়।
আনা: আমি জানি।
এম এফ হুসেন: ওই ছবি মাত্র কয়েক মাস আগে দেখিয়েছি। আমি মাত্র একটি ছবিই করেছিলাম।
আনা: কাজটি, মানে প্রতিকৃতিটি মাত্র ১০ মিনিটে শেষ করেছেন?
এম এফ হুসেন: কেন ১০ মিনিট? আমি এক সেকেন্ডে আঁকতে পারি।
আনা: অনুরাগী হিসেবে জানতে চাচ্ছি।
এম এফ হুসেন: আমি যা বলেছি, ঈশ্বর এই বিশ্বকে তৈরি করেছেন। এটা সৃষ্টির একটা অংশ। কোনো মানুষের বছর লাগে, কারও অত সময় লাগে না।
আনা: এই বয়সে আপনার এত অ্যানার্জি? আর ইদানীং দেখা যাচ্ছে আপনি লম্বা তুলি নিয়ে হাঁটেন?
এম এফ হুসেন: ব্রাশ?
আনা: এটা কোনো আইডিয়া?
এম এফ হুসেন: আমি পছন্দ করি, ভালো লাগে।
আনা: স্টাইল অথবা ফ্যাশন?
এম এফ হুসেন: না, ফ্যাশন নয়, কিন্তু ভালো লাগে।
আনা: নাকি লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ?
এম এফ হুসেন: না, না। আপনার কি ধারণা আমার এখনো অ্যাটেনশন দরকার আছে?
আনা: একদমই না।
এম এফ হুসেন: এখন আমার বয়স ২০ বছর হলে কেউ বলতে পারত।
আনা: খালি পায়ে হাঁটার ব্যাপার…।
এম এফ হুসেন: স্বাস্থ্যগত কারণে। প্রাচীনকালেও মানুষ খালি পায়ে ঘুরত। মাটির ওপরে হাঁটলে এ ধরনের একোয়া প্রেশার তৈরি হয়।
আনা: আপনার পরিবার?
এম এফ হুসেন: চার ছেলে, দুই মেয়ে। দ্বিতীয় ছেলে সামশাদ চিত্রশিল্পী। ছোট ছেলে চলচ্চিত্রকার ও চিত্রশিল্পী। স্ত্রী মারা গেছেন ২০০০ সালে। ৪৩ বছর একত্রে ছিলাম। ছিলেন খুব সলিড, রক। সব সময় তাঁর সাপোর্ট পেয়েছি।
আনা: আপনি খেতে এবং রান্না করতে ভালোবাসেন?
এম এফ হুসেন: হায়দরাবাদি ও লক্ষ্ণৌর নবাবি খাবার খুব পছন্দ করি। কিন্তু এই বয়সে ওপেন হার্ট সার্জারির পর আমাকে সতর্ক থাকতে হয়। ৮০ বছরের ওপর ক্রিম আর ঘি দেওয়া খাবার খেয়েছি। কিছু হয়নি। তবে এখন খাই-ই না বলতে গেলে।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, জানুয়ারী ১৫, ২০১০

%d bloggers like this: